‘তিনি স্বপ্নের জাদুকর, তিনি স্বপ্ন পূরণের নায়ক’

286

স্টাফ রিপোর্টার : তপ্ত রোদ। বৃষ্টির আগমন। তারপর রাতে আতশবাজির ঝলকানি। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টার পর্যন্ত নগর ভবনে প্রকৃতির চিত্র এমনই ছিলো। যদিও পুরো সিটি করপোরেশন জুড়ে ছিলো বর্ণিল আলোকসজ্জা। নগভবনের গেটেই রাখা বড় বড় পোস্টার। সেখানে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। দ-ায়মান পতাকা সগৌরবে জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতি। মূল অনুষ্ঠানমঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায়। পুরো প্যান্ডেলভর্তি উপচে পড়া মানুষের ভিড়। আর এসব কিছুরই আয়োজন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পঞ্চম মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে বরণ করে নিতে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হলো মূল অনুষ্ঠান। নগর ভবনে প্রবেশ করলেন মেয়র। তারপর বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করলেন অভিষেক অনুষ্ঠান। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগর পিতাকে বরণ করতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন আর বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছিল গতকাল শুক্রবার। হাজার হাজার মানুষের ভিড় ছিলো পুরো নগরভবন এলাকাজুড়ে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট বসার জায়গা পূরণ হয়ে যায়। তাই বাইরে প্যান্ডেল করে এবং বড় স্ক্রিনে নবনির্বাচিত মেয়রের অভিষেক অনুষ্ঠান উপভোগ করার ব্যবস্থা করা হয়। তারপরও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ভেঙে উপচে পড়া ভিড় নগরবাসীর। প্রাণপ্রিয় মেয়রকে স্বাগত জানাতে আসে। শুক্রবার বিকেলে নগর ভবনের গ্রিনপ্লাজায় এমনই উৎসবমুখর হয়ে উঠে। তেমনি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় মেয়রের অভিষেক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আসন গ্রহণ, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নবনির্বাচিত মেয়রকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ আনোয়ারুল আমিন আযব। হঠাৎ ঠিক সেই মুহূর্তে, আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি, যেন প্রকৃতিও জানান দিল তার স্বস্তি ফিরে পাওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মনিরা রহমান মিঠি উপস্থাপনাকালে বৃষ্টির ভালবাসা, ¯িœগ্ধতা ও শক্তির কথা উল্লেখ করলেন।
পঞ্চবটির ব্যবসায়ী কাদের আলী জানান, আমার বিশ্বাস তিনি রাজশাহীর ব্যাপক উন্নয়ন করবেন। কারণ পূর্বের ইতিহাস তাই বলে। মিঞাপাড়ার বাসিন্দা মোর্শেদ জানান, বদলে দেয়া নগরীর সেই জাদুকরকে দেখতে এসেছি। কাজলা নিবাসী স্কুল শিক্ষক সোমা জানান, লিটন ভাইয়ের আমলে রাজশাহীর যে উন্নয়ন হয়েছিল তা পরবর্তীতে আর অগ্রসর না হয়ে বরং বিনষ্ট হতে দেখেছি। তাই আজ সেই স্বপ্নের ফেরিওয়ালাকে ফিরে পেয়ে নগর ভবন তার প্রাণ ফিরে পেল। আশা করছি তার দেয়া প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করবেন।
মেয়র পতœী শাহীন আক্তার রেনী তার বক্তব্যে বলেন, আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই দিনটির কথা। দিনটি ছিল ৩০ জুলাই, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। আবহাওয়াটা ছিল এতই খারাপ, কখনও রৌদ্র, কখনও বৃষ্টি। আমি দেখেছি ছোট থেকে বড় সবাই ছুটছে। এলাকায় এলাকায়, রাজশাহী শহরের ৩০টি ওয়ার্ড, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমার দলীয় নেতাকর্মী, আমার নারীকর্মী বাদেও সাধারণ মানুষ, সকলেই সেদিন উদ্বেলিত হয়ে চিৎকার করছিল। সকলের মুখেই ‘নৌকা, নৌকা, এবার লিটন ভাইকে চাই।’ লিটন ভাইও স্লোগান তুলেছিল, রাজশাহী সেজেছিল রঙিন পোস্টারে ‘চলো বদলে দেই আবারও রাজশাহী।’
তিনি বলেন, আজকে সেই আনন্দের দিন। আমাদের প্রাণপ্রিয় মানুষ যাকে সেদিন সবাই চেয়েছিল, সেই মানুষটি আজ আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, আপনাদেরই ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজ সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এবার রাজশাহীকে আবারও বদলে দিতে হবে। আমরা বদলে দেব, এই জন্য আজকে আপনাদের সকলের দোয়া চাই, আশির্বাদ চাই, পরামর্শ চাই। আপনাদের পরামর্শ নিয়েই এইবার আমাদের নবনির্বাচিত মেয়র এবং তার পরিষদ, এই সিটি করপোরেশনকে ঢেলে সাজাবে। এবং আমাদের এই নগরী শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই নয় সারা বিশ্বের মানচিত্রে রাজশাহীর নাম জ্বলজ্বল করবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই রাজশাহীকে বাসযোগ্য করে তুলবে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নগরী হবে রাজশাহী।
অনুষ্ঠান শেষে নব নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলরগণ ও সকল অতিথিবৃন্দের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতেই নগর ভবনের ছাদ থেকে জমকালো আতোশবাজি করা হয়।

SHARE