নতুনে নবযাত্রা শেখ হাসিনার ,শপথ আজ

205

গণধ্বনি ডেস্ক : টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন। ঐতিহাসিক এ নবযাত্রায় নতুনদের প্রতি আস্থা রাখলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের ৪৭ জনের মন্ত্রিসভায় ২৭ জনই নতুন মুখ। প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্তকে অনেকেই শুধু চমক নয়, বলছেন ‘মহাচমক’। এই মন্ত্রিসভার শপথ আজ সোমবার। আগের মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট ও সিনিয়র নেতাদের বেশির ভাগই বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েছেন মহাজোট ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া দলের কয়েকজন তরুণ নেতাও এবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী হচ্ছেন।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এটা আগে থেকেই ঠিক ছিল। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাদের শপথ পড়াবেন- এটাও পূর্বনির্ধারিত। কিন্তু গতকাল রোববার দুপুরের পর থেকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর সবার কাছেই ঘটনাটি রীতিমতো চমক হিসেবেই দেখা দেয়। কারণ, সেখানে অনেকেই ছিলেন নতুন মুখ। তা ছাড়া আগের মন্ত্রিসভার বড় বড় নেতা প্রায় সবাই বাদ পড়েছেন।

দুপুরের পর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের টেলিফোন করে শপথের আমন্ত্রণ জানাতে থাকেন।

একের পর এক আমন্ত্রণ পাওয়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর নামগুলো গণমাধ্যমে চলে আসে। এ নিয়ে সর্বত্র শুরু হয় নানা আলোচনা, বিশ্নেষণ। বাদপড়াদের মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়ার কারণ নিয়ে শুরু হয় নানা বিশ্নেষণ।

প্রচলিত প্রথা ভেঙে বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। শপথের আগে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আগে কখনও ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ব্যস্ত সময় কাটান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে দুই দফায় গণভবনে ডেকে নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে দুপুর দেড়টায় সচিবালয়ে ফেরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। পরে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথের আমন্ত্রণ জানিয়ে টেলিফোন করা হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার আকার হচ্ছে ৪৬ সদস্যের, যা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। এর মধ্যে মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী তিনজন। টেকনোক্র্যাট কোটায় এসেছেন আরও তিনজন। এই মন্ত্রিসভায় ২৭ জনই নতুন মুখ। অন্যদিকে, বাদ পড়ছেন আগের মন্ত্রিসভার ৩৪ জন। এ ছাড়া আগের মন্ত্রিসভার পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে হচ্ছেন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন একই দায়িত্বে থেকে যাচ্ছেন।

বিদায়ী মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রীদের মধ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান নূরসহ প্রায় সব বড় নেতাই নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন।

একইভাবে মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও। শরিক দলগুলো থেকে মন্ত্রিসভায় কাউকে কেন রাখা হলো না, সে বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, একাদশ সংসদের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জাতীয় পার্টি আগেই বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু সঙ্গত কারণেই বাদ পড়েছেন নতুন মন্ত্রিসভা থেকে।

আগের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং নতুন মন্ত্রিসভায় যারা থাকছেন, তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক।

অন্যদিকে, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ ও মন্নুজান সুফিয়ান এক মেয়াদ পর মন্ত্রিসভায় ফিরেছেন। ২০০৯ সালের প্রথম মেয়াদের মহাজোট সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকলেও ২০১৪ সালের দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছিলেন তারা।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৬টিতেই জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মহাজোট পায় ২৮৮টি। যার মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি, জাসদ তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, বিকল্পধারা দুটি, তরীকত ফেডারেশন একটি ও বাংলাদেশ জাসদের একটি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র সাতটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন তিনটি আসনে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা ছাড়া নবনির্বাচিত সব এমপিই শপথ নেন। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন শেখ হাসিনা।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। ওই সময় শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দু’জন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টেকনোক্র্যাট তিন মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়।

নতুন মন্ত্রিসভা যাদের নিয়ে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের কাছে রেখেছেন চারটি মন্ত্রণালয় ও দুটি বিভাগের দায়িত্ব। এগুলো হচ্ছে- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হয়েছেন ২৪ জন। তারা হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১); সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫); কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক (টাঙ্গাইল-১); স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (ঢাকা-১২); তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭); আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪); অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস (কুমিল্লা-১০); স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী:তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯); শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩); পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন (সিলেট-১); পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান (সুনামগঞ্জ-৩); শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (নরসিংদী-৪); বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক (নারায়ণগঞ্জ-১); স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন (মানিকগঞ্জ-৩); খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১); বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি (রংপুর-৪); সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ (লালমনিরহাট-২); গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম (পিরোজপুর-১); পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন (মৌলভীবাজার-১); পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং (বান্দরবান); ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (চট্টগ্রাম-১৩); রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন (পঞ্চগড়-২); বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (টেকনোক্র্যাট) এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার (টেকনোক্র্যাট)।

প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ১৯ জন। তারা হচ্ছেন- শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার (ঢাকা-১৫); প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ (সিলেট-৪); যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুর-২); বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু (ঢাকা-৩); মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু (নেত্রকোনা-২); শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩); নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২); প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন (কুড়িগ্রাম-৪); পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম (রাজশাহী-৬); তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩); জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুল (মেহেরপুর-১); স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য (যশোর-৫); পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫); স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান (জামালপুর-৪); সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ (ময়মনসিংহ-২); সংস্কৃৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ (ময়মনসিংহ-৫); দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান (ঢাকা-১৯); বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী (হবিগঞ্জ-৪) এবং ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (টেকনোক্র্যাট)।

এ ছাড়া উপমন্ত্রী হয়েছেন তিনজন। তারা হচ্ছেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার (বাগেরহাট-৩); পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২) ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (চট্টগ্রাম-৯)।

নতুন এ মন্ত্রিসভার তালিকা অনুযায়ী ১০টি মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী রাখা হয়নি। যেগুলোতে প্রতিমন্ত্রীদের ওপরই ভরসা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ১০টি মন্ত্রণালয় হচ্ছে- প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, নৌপরিবহন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পানিসম্পদ, সংস্কৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আপাতত এটাই প্রাথমিক চূড়ান্ত। তবে মন্ত্রিসভা বাড়ানো-কমানো রুটিন কাজ। প্রধানমন্ত্রী চাইলে সময়ে সময়ে বাড়াতে পারেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব এখতিয়ার। তিনি বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন, সেসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করবেন। আর যেসব মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী নেই, সেখানে প্রতিমন্ত্রীরা মন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উপদেষ্টাদের বিষয়টি মন্ত্রিসভার অংশ নয়। শরিকদের মধ্যে কেউ মন্ত্রিসভায় না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাখ্যা আমার কাছে চাইলে দিতে পারব না।’

আজ শপথ : আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন এই মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তারাই হবে দেশের নতুন সরকার। আর শপথ নেওয়া পর্যন্ত আগের মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে আগের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।

নতুন মন্ত্রীদের যাতায়াতের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ২০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া : নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের ওপর আস্থা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।  দেওয়া পৃথক প্রতিক্রিয়ায় এ আস্থার প্রতিদান রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমার ভালো লেগেছে। ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করব।’

নতুন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর ভালোভাবে এবং সততা, সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করব।’ ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন মন্ত্রিসভার শ্রদ্ধা নিবেদন কাল : নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরদিন বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা।

SHARE