সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে কৃষক নয়, লাভবান মিল মালিক

173

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে এখন সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। এতে লাভবান হচ্ছেন চাল মিল মালিকরা। কিন্তু জমি থেকে যখন ধান ওঠেছে তখন কম দামেই সেসব ধান মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে কৃষকদের। ফলে চাল সংগ্রহ কর্মসূচির কোনো সুফলই পাচ্ছেন না রাজশাহীর কৃষকরা।

তারা বলছেন, ঘরে ধান ওঠার সময়ই সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলে তারা নায্যমূল্য পেতেন। কিন্তু দেরিতে দাম নির্ধারণ করে দেয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৈরাত্বের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এখন আবার কৃষকের কাছ থেকেও চাল কেনা হলে যাদের ঘরে ধান আছে তারা লাভবান হতেন।

গত বছরের চেয়ে ৭ শতাংশ বেড়ে রাজশাহীতে এবার ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়। পূরণ হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু হাট-বাজারে আমনের দাম পাননি কৃষকরা। তাদের প্রতি মণ আমন ধান বিক্রি করতে হয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।

এদিকে গত ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু হয়েছে। খাদ্য বিভাগ প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনছে। বাজারে এই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩১ থেকে ৩২ টাকা দরে। ফলে সরকারের কাছে চাল বিক্রি করে মিল মালিকরা লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে কৃষক ধানের উৎপাদন করেছেন তারা ভালো দাম পাননি।

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সেখেরপাড়া গ্রামের কৃষক পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ধান ওঠার পর ধান বিক্রি হয়, কিন্তু দাম পাওয়া যায় না। ধান যখন ওঠে তখন সরকার দামটা নির্ধারণ করে দিলে আমরা লাভবান হতাম। মৌসুমের শুরুতে আমনের স্বল্পমূল্যের কারণে কৃষকের অধিকাংশ ধান ঢুকেছে মজুতদারের ঘরে। ফলে এবারো ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে কৃষক।

দুর্গাপুরের আমগাছি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে তা আমরা ধান বিক্রি করতে তুলতে পারিনি। সরকারিভাবে ধানের দাম নির্ধারণ করে দেয়ার আগেই অধিকাংশ কৃষকের ধান বিক্রি হয়ে গেছে। এখন কৃষকের ঘরে ধান নেই বললেই চলে।

বিষয়টি স্বীকার করছেন মিল মালিকরাও। পবার মেসার্স দোলা চাল মিলের মালিক আফসার আলী বলেন, যখন ভাবা হয় ধানের দাম আরো বাড়বে তখন চালের সাথে ধানের দামের সমন্বয় থাকে না। এখন আমাদের কাছ থেকে চাল কেনা হলেও অধিকাংশ কৃষকের ঘরে ধান নেই। বাধ্য হয়ে মজুতদারের কাছ থেকেই আমাদের ধান কিনতে হচ্ছে। ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এরা কম দামে কৃষকের ধান কিনে রেখেছে।

রাজশাহীর অন্য আরেকটি চালমিলের মালিক বলেন, বাজার মূল্যের চেয়ে কেজিতে ৩-৪ টাকা বেশি দরে আমন ধানের চাল সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে। কিন্তু এখন ধানেরই অভাব। তাই কেউ কেউ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করেও খাদ্য গুদামে দিয়ে আসছেন। এতেও মিল মালিকরা লাভবান হচ্ছেন। জেলা চাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, লাভ হোক আর ক্ষতি হোক আমরা খাদ্য গুদামে চাল দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করি।

জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভুঁইয়া জানান, রাজশাহীতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ হাজার ৭৩৩ মেট্রিক টন আমন চাল কেনা হবে। চাল সরবরাহ করতে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২৩৮টি মিল। নাজমুল হক বলেন, উৎপাদন খরচ হিসাব করে ধানের দাম ধরা হয়। সেক্ষেত্রে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন অভিযোগ সত্যি নয়। তারপরও যদি তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থাকতে পারে। তবে কৃষকের কাছ থেকে আমাদের চাল কেনার সুযোগ নেই। মিলারদের কাছ থেকেই আমাদের চাল কিনতে হয়।

SHARE