আজ রাসিক এর দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র লিটন

181

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে আজ। আজ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্বগ্রহণ করবেন। তাকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। বিকেল ৩ টায় নগরভবনের গ্রিনপ্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়েই রাজশাহী উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের মধ্যে প্রবেশ করবে।
২০১৩ থেকে ২০১৮। এই পাঁচ বছরে নগরবাসী প্রতিটি ক্ষণে স্মরণ করেছে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে। আর আত্মশ্লাঘায় ভুগেছে, দোষারোপ করেছে নিজেকে। সেই বেদনা আরো তিব্র হয়ে দেখা দিয়েছে যখন দেখেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত যে উন্নয়ন নগরবাসীর জন্য খায়রুজ্জামান লিটন করেছিলেন, তার কিছুই করতে পারছেন না মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বরং মহানগরী ক্রমশ বিবর্ণ হয়েছে। তবে সেই কষ্টেরও অবসান ঘটেছে। নগরবাসী দ্বিতীয়বার আর সেই ভুল করেননি, ঠিকই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন তাদের কাক্সিক্ষত নগরপিতাকে। দ্বিতীয় দফায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
খায়রুজ্জামান লিটনও শপথ নেয়ার পর থেকেই তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর যে গ্যাস সংযোগ বন্ধ ছিলো। শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে সেই প্রতিশ্রুিত পূরণের শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গ্যাস সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জনাব লিটনের মতে ৬ মাসের মধ্যেই বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার কাজ শুরু হবে। তাই বলা যায়, প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমেই দ্বিতীয় দফায় আজ শুক্রবার দায়িত্বগ্রহণ করবেন মেয়র লিটন। শুধু তাই নয়, খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে বলছেন, ‘আমি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নগরবাসীর প্রভূত উন্নয়ন করেছি। তা সত্ত্বেও আমার কিছু ভুলত্রুটি ছিল। আগামিতে যেন সব ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে উঠে নগরবাসীর থমকে যাওয়া উন্নয়নকে গতিশীল করতে চাই। আপনারা সবসময় আমার পাশে থাকবেন।’ তাঁর এই বক্তব্য নগরবাসী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। এই বক্তব্য জনাব লিটনের প্রতি আস্থার পরিমাপক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ইয়াকুব আলী বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিলো আবার খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র পদে আসীন হবেন। সেই প্রতীক্ষার অবসান কাল (শুক্রবার) ঘটছে। বিগত পাঁচ বছর নগরবাসী হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে খায়রুজ্জামান লিটনের অনুপস্থিতি। ফলে দ্বিতীয়বার আর সেই ভুল করেননি তারা। আমার বিশ^াস, থমকে যাওয়া নগরীর উন্নয়ন এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলবে।
সিটি করপোরেশনের এক হিসাবে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে রাজশাহী শহরে মোট ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে ৭৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল খায়রুজ্জামান লিটনের সময়ে। করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খায়রুজ্জামান লিটন থোক বরাদ্দ পেয়ে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করেন। তার সময়ে ৫৭৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার নয়টি প্রকল্প অনুমোদন হয়।
২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে খায়রুজ্জামানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর ১৬ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। মেয়র থাকতে খায়রুজ্জামান ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত সড়কের প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন পান। এখনো এ কাজ চলছে। খায়রুজ্জামানের সময়ে নেয়া প্রায় ২০১ কোটি টাকার তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প বুলবুলের সময়েও চলমান ছিল। এর বাইরে ভারত সরকারের ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয় তার দায়িত্বকালে। এ প্রকল্পের অধীন ছয়টি মন্দির, তালাইমারিতে পদ্মা লাইব্রেরির সংস্কার ও ফুটপাতের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। দৃশ্যত এই ছিল মোসাদ্দেকের সময়ের উন্নয়ন কাজ। এর বাইরে কিছুই করতে পারেন নি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। উল্টো তার সময়ে হোল্ডিং ট্যাক্স কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি হোল্ডিং ট্যাক্সের ব্যাপারে কোনে সিদ্ধান্ত নেননি। বরঞ্চ তিনি ১০১ কোটি টাকার দায় রেখে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অথচ ২০১৩ সালে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়রের দায়িত্ব ছাড়ে তখন রাসিক-এ উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলেন ১৭ কোটি টাকা। ২০০৮ সালে জনাব লিটন প্রায় ২২ কোটি টাকার দেনা নিয়ে রাসিক-এর দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
গত সিটি নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটন যে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন। মেয়র লিটন তার নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, আবাসন, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্রীড়া সংস্কৃতি ও নাগরিক কেন্দ্র, নারী উন্নয়ন, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গ্যাস সংযোগ, স্বনির্ভর সিটি করপোরেশনসহ উন্নয়নের মোট ১৪ দফা দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিলেন। তার মধ্যে গ্যাস সংযোগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

SHARE