শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

47

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সম্মানীর টাকা কম দেওয়া নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেছে। পরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘অবরুদ্ধ’ রেখে পুরো টাকা আদায় করেছেন শিক্ষকেরা। প্রশিক্ষণ শেষে রোববার সন্ধ্যায় মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ভ্যাটের টাকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে এ ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণে মোহনপুর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক স্কুল ও ১৮টি মাদ্রাসার ৬৩৮ জন শিক্ষক অংশ নেন। তাদের প্রত্যেকের সম্মানী ছিল ৫ হাজার ১৩০ টাকা। এছাড়া প্রতিদিন অংশগ্রহণকারীদের জন্য মাথাপিঁছু ৮০ টাকার নাস্তার বরাদ্দ ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহানপুর উপজেলার একাধিক শিক্ষক জানান, প্রথম দুইদিন যে নাস্তা দেওয়া হয়েছে তা কোনভাবেই ৮০ টাকার বলা যাবে না। সব মিলিয়ে বড়জোর ২৫ থেকে ৩০ টাকা হবে। এ জন্য শিক্ষকরা সবাই মিলে জানান, তারা নাস্তা খাবেন না, এর বিনিময়ে তারা টাকা নিবেন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, তারা ৮০ টাকার বদলে ৫০ টাকা করে তিন দিনের জন্য ১৫০ টাকা দিতে পারবেন। শিক্ষকেরাও সেটি মেনে নেন।

শিক্ষকদের হিসাবে, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য তারা ৫ হাজার ১৩০ টাকা এবং তিন দিন নাস্তা না করার কারণে ১৫০ টাকা পান। সবমিলিয়ে টাকার পরিমাণ ৫ হাজার ২৮০। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ৮০ টাকা করে কেটে রাখেন শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষকেরা জানান, প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ হাজার ২৮০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও ৫ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় ৮০ টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তখন শিক্ষকদের বাধার কারণে ট্রেনিং সেন্টার থেকে বের হতে পারছিলেন না কর্মকর্তারা। পরে তারা বাধ্য হয়ে প্রত্যেককে ৫ হাজার ২৭০ টাকা করে দিয়ে ট্রেনিং সেন্টার ছেড়ে গেছেন। প্রত্যেকের অন্য ১০ টাকা কাটা হয়েছে রাজস্ব স্ট্যাম্পের জন্য। শিক্ষকেরা এটি মেনে নিয়েছেন।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের টাকা কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুক্তাদির আহম্মদ বলেন, টাকা কম দেওয়া হচ্ছিল এটি ঠিক নয়। আসলে ভ্যাটের একটা বিষয় নিয়ে জটিলতা হয়েছিল। পরে সমাধান করা হয়েছে। তাকে কেন্দ্রে আটকে রাখা কিংবা অবরুদ্ধ করার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

SHARE