চব্বিশ তারিখ থেকে দেশের অবস্থা পাল্টে যাবে : মিনু

187

স্টাফ রিপোর্টার : সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহীর ৩০ ওয়ার্ড দক্ষিণে গণসংযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং রাজশাহী সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জননেতা মিজানুর রহমান মিনু। গণসংযোগের পুর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মিনু বলেন, আগামী চব্বিশ তারিখ থেকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। সেনাবাহিনী মাঠে নামলে নির্বাচনী পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। তখন সরকারী দলীয় প্রার্থী ও তাদের ক্যাডার ও সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর কোন প্রকার নির্যাতন ও অত্যাচার করতে পাববে না। রাজশাহীতে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এই জোয়ারে নৌকা কোথাও স্থান পাবেনা। নির্বিঘেœ নেতকর্মী ও সমর্থকদের মাঠে থেকে নিবর্চান করার আহবান জানান তিনি। রাজশাহীর সকল স্থানে একটাই রব শুধু ধানের শীষ। সাধারণ ভোটারগণ ভোট প্রদানের জন্য ৩০ তারিখের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান মিনু। মিনু আরো বলেন, এই সরকার জোর করে ভোট সেন্টার দখল করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আবহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজশাহীর যত উন্নয়ন বিএনপি’র আমলে হয়েছে। শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ৩৭টি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান এবং ২৪৪টি সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হয়। এছাড়াও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি ভিত্তিক ইপিজেট স্থাপন করা প্রকৌশলী কলেজকে বিশ্বদ্যিালয়ে রুপান্তর করার জন্য তিনি সংসদে বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বর্তমান রাজশাহীর নৌকার মাঝি রাজশাহীর জন্য কোন প্রকার উন্নয়ন করেনি। যেগুলো তিনি বলে বেড়াচ্ছেন সেগুলো বিএনপি’র আমলে হয়েছে। সেইসাথে তাঁর গ্রহনকৃত প্রকল্পগুলো পরবর্তী মেয়রগণ বাস্তবায়ন করেছে। সিটির উন্নয়নে মেয়রগনের ভূমিকা হচ্ছে প্রধান। রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ, সিটি বাইপাস, অন্যান্য রাস্তা প্রসস্থকরণ, ওয়াসা স্থাপন, আধুনিক রেলওয়ে ষ্টেশন, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ট্রেন সার্ভিস চালু, ষ্টেডিয়ামগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জন্য দশতলা ভবন নির্মান, পানি ও পয়নিস্কানের জন্য প্রসস্থ ড্রেন নির্মান, সিটি হাট প্রতিষ্ঠা, নতুন বাস টার্মিনাল নির্মান, আমচত্বর, আধুািনক বড় মসজিদ নির্মান, আরডিএ ভবন ও আদালত ভবন নির্মান, গ্যাস সংযোগসহ সকল প্রকার উন্নয়ন তিনি করেছেন। সেইসাথে রাজশাহীকে গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি হেলদি সিটি, এডুকেশন সিটি ও নিরাপদ সিটি হিসেবে তিনি গড়ে তুলেছেন। এর জন্য সিটি কর্পোরেশন পুরস্কারও লাভ করেছে। এছাড়াও অসামাজিক কাজে লিপ্ত অসহায় ৯৪জন নারীকে সিটি কর্পোরেশনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তিনি করেন বলে জানান মিনু। তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র প্রতি মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা ও আস্থা রয়েছে। জনগণ জানেন বিএনপি আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি কখনো ধ্বংসের রাজনীতি করেনা। বেগম খালেদা জিয়া যেমন দেশকে ভালবাসেন তেমনি তার নেতাকর্মী ও সমর্থক ও সাধারণ জনগণও দেশকে ভালবাসে। আর বর্তমান সরকার ধ্বংস, খুন, গুম, লুটের রাজনীতি করে। শেয়ার বাজার ধ্বংস করে হাজার হাজার পরিবারকে পথে বসিয়েছে। ব্যাংকের টাকা লুট করে ব্যাংক সেক্টরকে ধ্বংস করেছে। মন্ত্রি, এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাহিদা পুরণ করার জন্য এবং জনগণের টাকা আত্বস্বাত করে নিজেদের পকেট ভর্তি করার লক্ষে বার তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। এছাড়াও রাজশাহীতে ট্যাক্সের টাকা বাড়িয়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। তিনি নির্বাচিত হলে সিটির জনগনের ট্যাক্স সমস্যা দূর করা, নতুন ভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদান, কৃষিভিত্তিক ইপিজেট স্থাপন, পূর্নাঙ্গ কৃষি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শহরকে আরো সুন্দর করার জন্য নদীর ধার এলাকার পার্ক নির্মান, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে ২য় শিল্প নগরী স্থাপন, বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের আরো কয়েকটি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও মহিলা ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠান করা হবে বলে জানান মিনু। বক্তব্য শেষে তিনি বিনোদপুর বাজার হতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে অত্র এলাকার মির্জাপুর, চৌদ্দপাই ও মাসকাটাদিঘীর পাড়া, মহল্লা, বাজার এবং মোড়ে মোড়ে যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জনগনের নিকট ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় অত্র এলাকা মিছিলের নগরীতে পরিনত হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষে ধানের শীষে ভোট প্রদানের জন্য স্লোগান দিতে থাকেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগানে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসেন। এছাড়াও অনেকে বাড়ির বারান্দা ও ছাদে উঠে প্রিয় নেতা মিনুকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ধানের শীষে ভোট প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসাথে মুরুব্বি ভোটারগণ মাথায় দিয়ে মিনুকে দোয়া করেন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বিএনপি নেতা ওয়ালিউল হক রানা, ৩০ নং দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী, সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান আলী, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন আলী, শফিকুল ইসলাম, একেএম নজরুল ইসলাম শেলি, আবু সাদাত সায়েম মিলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. সি.এম মোস্তফা, প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ, প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা এছামী, রাবি সাদা দলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক, প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল, প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন. প্রফেসর ড. সৈয়দ সারওয়ার জাহান, প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রফেসর ড. হাসনাত আলী ও মতিহার থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন। এছাড়াও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন, অত্র ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহজাহান আলী, আলমগীর কবীর, আসাদুল, জামাল, আব্বাস, বাবলু, মিাজন, আশিক, বাচ্চু, সেচ্ছাসেবক দলের শামসুল, কামাল, তপন ও আরিফ, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক সামসুন্নাহার, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ, ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাহীসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটরগণ উপস্থিত ছিলেন ।

SHARE