রাবি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র সম্প্রসারণে আলোচনা

7

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুবিধাদি ও সেবা সম্প্রসারণের জন্য মঙ্গলবার এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রের মেনটর শিক্ষক এবং ইন্টার্নরা অংশ নেন। কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল হাসান সুফির সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান অতিথি রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের পরিবর্ধন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রের প্রধান মনোবিজ্ঞানী (অবৈতনিক) ড. সুলতানা নাজনীন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী তানজির আহমদ তুষার এবং ইন্টার্নি কো-অর্ডিনেটর মাহদী হাসান।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের বিশ্বে মানুষ তার সম্ভাবনার সীমাহীন সময় কার্যকর, উৎপাদনশীলভাবে ব্যয় করবে এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আর্থসামাজিক বিভিন্ন কারণে মানুষ বিচ্ছিন্নতা, হতাশা, ভবিষ্যত প্রশ্নে পরিকল্পনাহীনতা ইত্যাদি কারণে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে করে নানারকম মনো-সামাজিক ও মনো- দৈহিক সমস্যায় ভুগছে। যার ফলে দেশের সম্ভাবনাময় প্রজন্ম ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এই অবস্থা নিবারণ একান্তই আবশ্যক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও বিরাজমান এই অবস্থার ঊর্ধ্বে নয়। ফলে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের নানাবিধ মনো-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সে জন্য বিভাগসমূহের মেনটর শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনোবিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তার ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। আগামীতে এই কেন্দ্রটিকে সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উপাচার্য জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্টার্নি তাসনিম তামান্না কনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম (২০১৭ সালে) মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা হয়। পাঁচ বছরে এখান থেকে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এক বা একাধিকবার কেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন বিভাগের ৬১ জন মেনটর শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যায় প্রাথমিক পরামর্শ দেন।

SHARE