আদালত থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাই

27

গণধ্বনি ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার বিচার শুরুর দিন দুই জঙ্গি পালিয়ে গিয়েছে। পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা। রোববার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান ২০ আসামি বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার জাকির এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিন কারাগারে আটক ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা দুই আসামি আদালতে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পলাতক ছয় আসামি উপস্থিত ছিলেন না। আদালতে শুনানি শেষে তাদের আদালত থেকে বের করা হয়। এরপর সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গেটে সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে করে চার জঙ্গি পুলিশের চোখে স্প্রে করে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা একটা মোটরসাইকেল ফেলে রেখে যায়।

ছিনিয়ে নেওয়া আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম এবং লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেটেশ্বর গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব। তারা জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবের নাম রয়েছে।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের নিজ অফিসে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেদিন বিকেলে তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান। চার্জশিটে ৮ জনকে অভিযুক্ত এবং ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুজিবুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আদালতের সামনে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি সদস্যকে ধরিয়ে দিলে প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত থেকে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের পরিচয় শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করেছে ডিএমপি।

এছাড়া এ ঘটনায় ডিএমপির কোতোয়ালী থানায় ২০-২২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপি। মামলায় পলাতক জঙ্গি ও ডিএমপির কাছে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি মামলা করেছি। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের ও যারা আমাদের কাছে গ্রেপ্তার আছে তাদেরকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিষয়সহ কি কি ত্রুটি ছিল তা বের করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া দুই জঙ্গিকে কারা ছিনিয়ে নিতে এসেছিল তাদের সম্পর্কে বেশ ভালো তথ্য পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশা করছি যারা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এবং ওই দুই জঙ্গিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

সারা দেশের অধস্তন আদালতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ঢাকার আদালত থেকে দুই আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে সারা দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। আদালত থেকে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে তাদের। আশা করি, খুব শিগগিরই তাদের ধরতে পারবো। আমরা বর্ডার এলাকায় বলে দিয়েছি, তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে।

মন্ত্রী বলেন, “এ ঘটনাটি দুঃখজনক বলে আমরা মনে করি। যদি কারও অবহেলা, গাফিলতি থাকে; যদি কেউ ইচ্ছে করে এ কাজ ঘটিয়ে থাকেন তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নিশ্চয়ই এটার তদন্ত কমিটি আমরা করবো। সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

SHARE