নিরাপদ মাছের স্বীকৃতি চান চাষিরা

7

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে মাছ চাষে রাতারাতি বিপ্লব ঘটে গেছে। বিশেষ পন্থায় ট্রাককেই পুকুর বানিয়ে এখানকার চাষিরা জীবিত তাজা মাছ নিয়ে যান ঢাকাসহ দেশের ২০টি জেলায়। রাজশাহী থেকে জীবিত তাজা মাছ বাজারে যায় বলে ফরমালিন দেওয়ার কোন ভয় থাকে না। বাজারে বিক্রির সময় বিক্রেতারা বলেন, ‘এটা রাজশাহীর মাছ’। রাজশাহীর মাছের এতো নামডাক থাকলেও এর কোন সুফল পান না চাষিরা। বাজারে সব মাছের দামই এক।

এ অবস্থায় রাজশাহীর নিরাপদ তাজা মাছের স্বীকৃতি দাবি করেছেন এখানকার চাষিরা। তাদের নিরাপদ মাছের সনদ দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা মূল্য নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার ‘ট্রেনিং অন পোস্ট-হার্ভেস্ট ম্যানেজমেন্ট ফর প্রোডাক্ট সার্টিফিকেশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তারা এ দাবি জানান। উন্নয়ন সংস্থা আশ্রয় এ আয়োজন করে।

রাজশাহীর পবা উপজেলায় আশ্রয়ের ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব আব্দুন নাসের খান। নিরাপদ খাদ্য হিসেবে মাছের দেশীয় পর্যায়ে সার্টিফিকেশনের উদ্দেশ্য আশ্রয়ের বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল এন্টার প্রাইজ (এসইপি) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বিশ্ব ব্যাংক।

কর্মশালায় পবার নওহাটার মাছচাষি সাদিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিরাপদ মাছ উৎপাদন হয়। পানি যেন দূষিত না হয় তার জন্য পুকুরে গোবর দেওয়া হয় না। পুকুরে যেন থালা-বাসন ধোয়া না হয় তার জন্য কোন ঘাট থাকে না। ঢাকাসহ দেশের ২০টি জেলায় মাছ পৌঁছানো হয় জীবিত অবস্থায়। শুধু রাজশাহী থেকেই এভাবে তাজা মাছ যায়। তাই এই মাছে ফরমালিন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বাজারে সব মাছেরই দাম এক। তাই রাজশাহীর তাজা মাছের সনদ দিতে হবে। পাশাপাশি তাজা মাছের মূল্য যেন চাষিরা সঠিকভাবে পায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

পারিলার মাছচাষি সোহরাব আলী বলেন, ‘রাজশাহীর নিরাপদ তাজা মাছ বাজারে নিতে ব্যয় বেশি হয়। কিন্তু সেই তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। গত ১৪ মাসে মাছের এক কেজি খাবারের দামই বেড়েছে ১৬ টাকা। এখন এক কেজি মাছ বেচে চাষিরা ২০ টাকাও লাভ করতে পারে না। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা এক ঘণ্টাতেই ২০ টাকার ওপরে লাভ করে। তাই রাজশাহীর তাজা মাছের স্বীকৃতি দিয়ে সনদ দিতে হবে। মাছের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব আব্দুন নাসের খান চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের আইনের মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে এখনই বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা নানা খাদ্যপণ্য কেনার আগে বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সনদ চাচ্ছে। তারা এটাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। সে কারণে আইনের সংশোধন করে এই সনদ দেওয়ার বিষয়টি সংযোজন করা হবে। রাজশাহীতে নিরাপদ মাছ উৎপাদন করা হয় বলে তিনি চাষিদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, রাজশাহীর মাছচাষিদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রত্যেক উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নিরাপদ খাদ্য সমন্বয় কমিটি আছে। মাছ চাষিদের নিরাপদ মাছের সনদ দেওয়ার বিষয়টি ওই সভায় আলোচনা হতে পারে। সেই আলোচনার রেজুলেশন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। তাহলে চাষিদের দাবিটি সহজেই পূরণ হবে।

আশ্রয়ের এসইপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা লোকমান হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কারিগরি কর্মকর্তা সাদ আহমদ, পরিবেশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত ইসলাম, ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীর ইসলাম, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট কর্মকর্তা কাইসার আহমেদ প্রমুখ।

SHARE