বঙ্গবন্ধুকে জানবেন বিদেশী শিক্ষার্থীরাও

18

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়াশোনা করেন বিদেশী শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা থাকেন শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ূম ইন্টারন্যাশনাল ডরমিটরিতে। সেখানেই টেলিভিশন কিংবা স্থিরচিত্র দেখে কিংবা বই পড়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানার সুযোগ করে দিলেন ডরমিটরির ওয়ার্ডেন ড. মো. আতাউর রহমান।

গত ২৫ এপ্রিল এই ডরমিটরির ওয়ার্ডেন হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. আতাউর রহমান। এরপরই তিনি ডরমিটরিটিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হয় কাজ। ডরমিটরির ভেতরে নানা কাজের মধ্যে একটি হলো বঙ্গবন্ধু-স্মরণপথ ‘তিষ্ঠ ক্ষণকাল’। ডরমিটরির ভেতরে একপাশের ভবন থেকে অন্যপাশে যাওয়ার মাঝের করিডরটিতেই করা হয়েছে এটি।

এই করিডরটি আগে শুধু হাঁটার রাস্তাই ছিল। এখন সেখানে বসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেয়ালে দেয়ালে টানানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সব ছবি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে মিল রেখে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত ৭১টি বই। রাখা হয়েছে কয়েকটি এলইডি টেলিভিশন, যাতে চলবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন প্রামান্যচিত্র। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা এখানে বসবেন, পড়বেন কিংবা আড্ডা দেবেন।

বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বলে বিরাট ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা বাংলাদেশী গবেষকদেরও। কিন্তু ফাঁকা অনেক কক্ষ গিয়ে দখলে নিতেন সাধারণ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও। ড. আতাউর রহমান প্রতিটি কক্ষে নামফলক দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এই নামফলকে কক্ষ নম্বর, শিক্ষার্থী বা গবেষকের নাম, বিভাগ এবং ই-মেইল ঠিকানাও লেখা হয়েছে। মেঘমল্লার, ইচ্ছেনদী, হৃদয়পুর, নিশিমায়া, গল্পগৃহ, শরৎশশী, সাঁঝের মায়ার মতো মিষ্টি মিষ্টি সব বাংলা নামও দেওয়া হয়েছে কক্ষগুলোর।

‘সাইকেল অবসর’ নামে সাইকেল গ্যারেজগুলোর নামও রাখা হয়েছে নামফলক লাগিয়ে।

ডরমিটরির নিচতলায় অতিথিদের অপেক্ষার জন্য একটি ‘অপেক্ষালয়’ করা হয়েছে। রাখা হয়েছে নতুন সোফা সেট। অপেক্ষালয়ের সামনে একটি দোকান। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সম্প্রীতি সোপান’। এই দোকানে থাকবেন এস কে শাহীন। চাওয়ামাত্র তিনি টুকটাক প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়ে আসবেন শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে। বিনিময়ে তিনি পণ্যের দামের চেয়ে এক টাকা করে বেশি নেবেন। কিছুদিন পর এ দোকানে কেউ থাকবেন না। ‘সততা স্টোরের’ মতো শিক্ষার্থীরা এসে টাকা রেখে পণ্য নিয়ে চলে যাবেন।

মঙ্গলবার রাতে এতসব আয়োজনের উদ্বোধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। উদ্বোধনের পর ডরমিটরির সামনে হৈমন্তী, হলুদ পলাশ, শ্বেত গর্জন, ঢাকিজাম, নাগলিঙ্গম, সিভিট, তমালের মতো ২৫ প্রজাতির বিরল বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে রোপণ করা চারার সংখ্যা ৫০টি। এই ডরমিটরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষকের নামে সেই মীর আব্দুল কাইয়ূমকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ২৫ নভেম্বর হানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এই তারিখের সঙ্গে মিল রেখে গাছের প্রজাতি ছিল ২৫টি। এসব গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোথাও একটিও নেই।

ডরমিটরির সামনে গাছগুলোর প্রতিটিতে নামফলকও দেওয়া হয়েছে। এতে গাছের পরিচয় এবং এর গুণাগুণ লিখে রাখা হয়েছে। প্রতিটি গাছ একজন করে পরিচর্যা করবেন। কে পরিচর্যা করবেন তাঁর নামও লেখা আছে। এ বছর বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পাওয়া সিরাজগঞ্জের বিরল বৃক্ষের সংগ্রাহক মাহবুব পলাশ বিনামূল্যে গাছের চারাগুলো উপহার দিয়েছেন। তাই ডরমিটরির পক্ষ থেকে তাঁকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

পরে ‘বিফলে মূল্য ফেরত’ নামের একটি নাটকের প্রদর্শনী হয়। ডরমিটরির সামনে কোন মঞ্চ না থাকলেও প্রকৃত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা এ নাটক উপভোগ করেন সবাই। পরে অনুভূতি ব্যক্ত করেন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম, অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, গবেষক মীর্জা আলমগীর, জর্ডানের গবেষক সাইফ উদ্দিন প্রমুখ।

SHARE