পোষ্য কোটায় অকৃতকার্যদের ভর্তির সুযোগ,সমালোচনার মুখে রাবি প্রশাসন

34

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তির যোগ্যতা কমিয়ে ৬০ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত বিশ^বিদ্যালয়ের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা।

গতবছরও পাশ নম্বর কমিয়ে পোষ্য কোটায় শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ ও পর্যাপ্ত নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো রীতিমতো অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যাবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এতে করে তাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয়ের লক্ষ্য অর্জনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাই ধরনের নিয়ম সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাতিল করা উচিৎ। এসব প্রক্রিয়া বাতিল করে মেধাকেই প্রধান যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ থেকে ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি ইউনিটে কোটাসহ ৪ হাজার ৬৪৬ আসনের বিপরীতে মোট এক লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়। এবারের পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে পাস নম্বর ছিল ৪০। নিয়ম অনুযায়ী পাস নম্বর পাওয়ার পরই পোষ্য কোটা কার্যকর হওয়ার কথা। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তিচ্ছুরা ন্যূনতম ৪০ নম্বর না পাওয়ায় ভর্তির যোগ্যতা কমিয়ে ৩০ নম্বর করে ৬০ জন ভর্তিচ্ছুকে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, ‘পাশ করা শিক্ষার্থীদের বাদ রেখে অযোগ্যদের ভর্তি করানো অন্যায়ের মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে মেধাই একমাত্র যোগ্যতা হওয়া উচিত। এর বাইরের সকল যোগ্যতা বাতিল করা উচিত।’

এমন সিদ্ধান্তের ক্ষোভ প্রকাশ করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়ায় ওয়েটিং লিস্টে থাকা অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয়ের যে মূল লক্ষ্য দক্ষ গবেষক তৈরি সেটি অর্জনের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি। শুধুমাত্র বাবা-মায়ের পরিচয়ে যোগ্যতা শিথিল করে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে তারাই আবার শিক্ষক হয়ে যাবে। সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আরো বেশি খারাপ হবে। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারতান্ত্রিক হয়ে যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এই ধরনের নিয়ম সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাতিল করা উচিত। এই প্রক্রিয়াটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকারক। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অযোগ্য শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাবে, প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও ভর্তি উপ-কমিটির প্রধান অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ না পাক। কিন্তু সবার মতামত অনুসারে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০ নম্বর প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানরা ভর্তি হতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীদের অধিক পছন্দের বিষয় গুলোতে তারা ভর্তি হতে পারবে না।’

SHARE