রাজশাহীতে সার্জেন্ট সাবিহার দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ সবাই

64

স্টাফ রিপোর্টার: সামনে রিকশার জট। তাই পুলিশের থামার সংকেত খেয়াল করতে পারেননি শরিফুল ইসলাম (৩৫)। তিনি না থেমে চলেই যাচ্ছিলেন। তখনই একজন পুলিশ কনস্টেবল শরিফুলের মোটরসাইকেলের পেছনে বসা তাঁর স্ত্রী রশিদা বেগমের (৩২) হাত ধরে টান দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে রশিদা বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথা এবং কোমরে আঘাত পেয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকজন ফোর্স নিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার্জেন্ট সাবিহার নির্দেশ পেয়ে বাইকে থাকা নারীর হাত ধরে টান দেন একজন পুরুষ পুলিশ কনস্টেবল।
ঘটনার পর ওই নারী পড়ে গিয়ে আহত হন। বাইক নিয়ে পড়ে যান তাঁর স্বামীও। পরে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা আর মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাননি। এ সময় সহমর্মিতা না জানিয়ে সার্জেন্ট সাবিহা উল্টো বাগবিতণ্ডায় জড়ান এই দম্পতির সাথে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেলটি জব্দ করে ট্রাফিক অফিসে পাঠান। পরে আহত দম্পতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে যান। শরিফুল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেলেও তাঁর স্ত্রী রশিদা বেগমকে হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছেন চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামনে রিকশা থাকার কারণে পুলিশের সংকেত খেয়াল করতে পারেননি শরিফুল। তিনি চলে যাচ্ছিলেন দেখে সার্জেন্ট সাবিহা তাঁর সঙ্গে থাকা নগরীর রাজপাড়া থানার দুজন কনস্টেবলকে বলেন, ‘এই ধরো’। তখনই একজন কনস্টেবল ওই নারীর হাত ধরে টান দেন। এতে তিনি পড়ে যান। বাইক নিয়ে তাঁর স্বামীও পড়ে আহত হন।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে রিকশা থাকার কারণে সংকেত দেখতে পাইনি। তাই বলে একজন পুরুষ পুলিশ সদস্য একজন নারীর হাত ধরে তো টান দিতে পারেন না। আমরা পড়ে যাবার পর মেজাজ এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, রাগে আর কাগজপত্র দেখাইনি। সার্জেন্ট সাবিহা সে কারণে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে তিনি ওই কনস্টেবলকে দূরে সরিয়ে দেন। পরে আমার গাড়ি জব্দ করেন।’
তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী কোমর এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসক তাঁর সিটিস্ক্যান এবং এক্স-রে করতে দিয়েছেন। এসব কারণে একটু ব্যস্ত আছেন। তাঁর স্ত্রী সুস্থ হওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি আরএমপির পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সার্জেন্ট সাবিহা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। তাঁর স্বামী আরএমপির একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলে তিনি দাপট দেখান। বাইক থেকে নারীর হাত ধরে টেনে ফেলে দেওয়ার ঘটনা তিনি ঊর্দ্ধতন কোন কর্মকর্তাকে না জানিয়ে চেপে ছিলেন। সাবিহার বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অভিযোগ থাকার উঠলেও রহস্যজনককারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এই নারীকে বাইক থেকে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য সার্জেন্ট সাবিহাকে কয়েকদফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার অনির্বান চাকমাও ফোন ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আরএমপির ট্রাফিক পরিদর্শক আতাউল আল-কোরাইশী বলেন, ঘটনার পর সার্জেন্ট সাবিহা তাঁকে ঘটনাটি জানাননি। তিনি অন্য মাধ্যমে ঘটনা সম্পর্কে জেনে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। ওই নারী ও তার স্বামীকে ফেলে দেওয়ার পরও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে মোটরসাইকেল জব্দ করার কারণে তিনি সার্জেন্ট সাবিহাকে বকাঝকা করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য ভুক্তভোগী শরিফুল, সার্জেন্ট সাবিহা ও দায়িত্বরত দুই কনস্টেবলকে তিনি ডেকেছেন বলেও জানান পরিদর্শক কোরাইশী।

SHARE