চারঘাটের পল্লী চিকিৎসক হত্যা, সাত মাসেও উদঘাটন হয়নি রহস্য

27

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পল্লী চিকিৎসক আবদুল মান্নানকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার রহস্য প্রায় সাতমাসেও উদঘাটন হয়নি। কেন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। এতে হতাশায় পড়েছেন পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী। তারা হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে শনিবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

গত ২২ এপ্রিল ইফতারের সময় ফসলি জমিতে বিষ প্রযোগ করতে যান চারঘাট উপজেলার কানুজগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান। এ সময় কে বা কারা তাকে নৃশংশভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এই খুনের ঘটনায় চারঘাট থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়। এতে ফতেপুর গ্রামের রবিউল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ রবিউলকে গ্রেপ্তারও করেছিল। কিন্তু হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ৭ জুলাই মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছেন।

এই হত্যা মামলার অগ্রগতি, সব আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নিহতের ছেলে মাহিম হোসেন লিমন বলেন, পিবিআই মামলাটি পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরজমিনে মাত্র দুই থেকে তিনবার ঘটনাস্থলে গেছে। পিবিআইতে মামলা যাওয়া প্রায় সাড়ে চার মাস হলেও আজও তারা হত্যার রহস্য খুঁজে পায়নি। আমরা সন্তান হিসেবে আজ বড় অসহায়। বাবা হারিয়ে আমরা এতিম হয়েছি। বাবা হত্যার পর মা আজ মৃত্যু শয্যায়। পরিবার নিয়ে আমরা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু আতঙ্কে আছি।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যার প্রায় ৭ মাস চলে যাচ্ছে। এজাহারভুক্ত আসামি জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাবা হত্যার হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে- এটা যখন দেখি তখন নিজেদেরকেই অপরাধী মনে হয়। আর পুলিশ নাকি সব হত্যাকারীদের খুঁজে পাচ্ছে না। এই অবস্থায় পরিবারের আমরা সবাই অসহায় হয়ে পড়েছি। বর্তমানে অনলাইন ও তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসেও এ ঘটনায় হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যর্থতা কেন?’

এ সময় তিনি প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- নিহতের
ছেলে মাইনুল হোসেন লিপন, মেহেদী হাসান লিখন, মাহমুদুল হাসান সুমন, শলুয়া ইউনিয়নের সদস্য মো. সাবদুল, কৃষক আব্দুল বারী, চারঘাট উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, চারঘাট বিএম কলেজের প্রভাষক আশিক এলাহি বুলবুল, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইউনিটের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. মখলেসুর রহমান প্রমুখ।

এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ বলেন, নথিপত্র না দেখে তিনি মামলার অগ্রগতি নিয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

SHARE