বিয়ের মেহেদীতে শনাক্ত হলো সাব্বিরের খুনি

35

স্টাফ রিপোর্টার: ভ্যানচালক সাব্বির হোসেনকে (১৭) খুন করে তার ভ্যানের ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর সে ব্যাটারি এক দোকানে বিক্রিও করা হয়েছিল। পুলিশ খুঁজতে খুঁজতে ওই দোকানের সন্ধান পায়। উদ্ধার হয় ব্যাটারি। এ সময় দোকানের কর্মচারী পুলিশকে জানান, একটি ছেলে ব্যাটারি বিক্রি করে গেছে। তার হাতে ছিল মেহেদীর রঙ।

এ তথ্যের ভিত্তিতে সাব্বিরের চাচাতো ভাই মুন্না হোসেনকে (১৭) আটক করে ওই ব্যাটারির দোকানে হাজির করা হয়। এ সময় দোকানের কর্মচারী মুন্নাকে শনাক্ত করেন। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোর ভ্যানচালক সাব্বির হত্যার রহস্য এভাবেই উদঘাটন হয়েছে। সাব্বিরকে খুনের সঙ্গে জড়িত মুন্না তার চাচাতো ভাই। মাত্র একমাস আগেই মুন্না বিয়ে করেছে। বিয়ের মেহেদীর রঙ এখনও হাত থেকে ওঠেনি। সেই মেহেদীর সূত্রেই ধরা পড়েছে সে।

চাচাতো ভাই সাব্বিরকে খুনের পর মুন্না তার সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টও দিয়েছিল। পোস্টে সে সাব্বিরের ছবি দিয়ে লেখে, ‘এই ছেলেটি আজ সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ। তার সাথে ছিল ভ্যান। কেউ যদি দেখে থাকেন তাহালে আমাদের জানাবেন।’ তবে সাব্বিরকে খুনের অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় এই মুন্নাই গ্রেপ্তার হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবার সকালে বাঘার তুলসিপুর গ্রামের এক আমবাগান থেকে সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সাব্বির বাঘার বাউসা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। স্থানীয় আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল সে। গ্রেপ্তার মুন্নার বাবার নাম আবদুর রাজ্জাক। একই গ্রামে তাদের বাড়ি। সাব্বিরের বাবা হায়দার আলী অসুস্থ। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ভ্যান চালাতো সাব্বির। গত রোববার বিকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল সে।

এ নিয়ে রাতেই সাব্বিরের চাচা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন সোমবার পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি আমবাগানে ভ্যানটি পাওয়া যায়। তবে ভ্যানে কোন ব্যাটারি ছিল না। পরে বুধবার বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এক আমবাগানে সাব্বিরের লাশ পাওয়া যায়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাই সাব্বির হত্যাকাণ্ডের শিকার ধরে নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। লাশ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোবাইলের কললিস্ট যাচাই করে দেখা গেছে নিখোঁজ হওয়ার আগে মুন্নার সঙ্গেই সাব্বিরের কথা হয়েছে। তাই তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। পরে ব্যাটারি দোকানের সন্ধান পাওয়া গেলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। আটক করার পর ব্যাটারির দোকানীও মুন্নাকে শনাক্ত করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না পুলিশকে জানিয়েছে, এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুদের উপর টাকা নেওয়া ছিল মুন্নার। পাওনাদার তাকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকলে অস্থির হয়ে ওঠে সে। একপর্যায়ে সে সাব্বিরের ভ্যানের ব্যাটারি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করে। তাই সে সাব্বিরকে ভাড়ায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধ এবং মুখে আঘাত করে হত্যা করে। পরে ভ্যানের ব্যাটারি চারটি নিয়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে হাবাসপুর বাজারের এক দোকানে ৮ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যাটারিগুলো বিক্রি করে। এই দোকান থেকে পুলিশ ব্যাটারিগুলো উদ্ধার করেছে। ওসি জানান, মুন্না হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছে। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

SHARE