রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর ঘিরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

34

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিনই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আর এ অভিযোগ পাওয়া গেছে লক্ষ্মীপুর পুলিশ বক্সের বিরুদ্ধে। পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক চাঁদাবাজিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে ঐতিহ্য চত্বর, ঝাউতলা মোড় থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং লক্ষ্মীপুর থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাতের প্রত্যেক ব্যবসায়ীকেই এখন চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ওই এলাকার বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আবাসিক হোটেলগুলো থেকে চাঁদা তোলা হয়। রেহাই পান না হাসপাতালের সামনে ফুটপাতের কালাই রুটির দোকানীরাও। প্রত্যেককে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ওই এলাকার ছোট-বড় অনেক দোকানী এবং অন্য ব্যবসায়ীরা পুলিশকে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ‘ক্ষতি হওয়ার’ ভয়ে তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশ বক্সের একজন কনস্টেবল প্রত্যেক দিনই ইনচার্জের কথা বলে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে যান। কোনদিন টাকা দিতে না চাইলে দোকান উচ্ছেদ করা হবে বলে হুমকি দেখানো হয়।

ওই এলাকার আবাসিক হোটেলের মালিকেরা জানান, রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই লক্ষ্মীপুর এলাকাতেই। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ থেকে রোগীরা এখানে সেবা নিতে আসেন। তাদের থাকার জন্য গড়ে উঠেছে কিছু আবাসিক হোটেলও। রোগীদের হয়রানির ভয় দেখিয়ে হোটেলগুলো থেকে চাঁদা তোলা হয়। চাঁদা দিতে না চাইলে রাতবিরাতে এসে নানারকম ঝামেলা করে পুলিশ। কয়েকটি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মালিকও পুলিশকে টাকা দিতে হয় বলে স্বীকার করেছেন।

রামেক হাসপাতালের সামনের এক কালাই রুটির দোকানী বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। রাস্তার ওপরে রুটি বানিয়ে বেচি। কয় টাকা আর ইনকাম হয়? কিন্তু এই এলাকারই একজন দোকানী প্রতিদিন ৭০ টাকা করে নিয়ে যায় পুলিশের কথা বলে। দু’একদিন টাকা না দিলেই লক্ষ্মীপুর পুলিশ বক্স থেকে পুলিশ এসে ফুটপাত থেকে উঠতে বলে যায়। পরদিন টাকা দিলে তারা আর ঝামেলা করেনি। তাই এখন প্রতিদিনই টাকা দিতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর মোড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যে কোন দোকান চালাতে হলে পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মাসে মাসে। এ টাকা না দিলে উচ্ছেদ করা হয়। সম্প্রতি এক চা দোকানীকে তুলে দিয়েছে পুলিশ চাহিদামতো টাকা দিতে না পারার কারণে। আবার চাহিদামতো টাকা দিলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দোকান দেওয়ারও অনুমতি দেয় পুলিশ। আবার যারা বেশি টাকা দেয়, তাদের সারারাতই দোকান খুলে রাখার অনুমতি দেয় পুলিশ। ওসব দোকানে গভীর রাতে আড্ডা চলে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের। এদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হয় বলে জানা গেছে। এদের সাথে এসআই মানিকের সখ্যতাও দেখা গেছে।

লক্ষ্মীপুর মোড়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথের পাশে লেপ-তোষক বানান এক কারিগরি। সপ্তাহে তার কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া নতুন ইসলামি হাসপাতালের পাশে এক মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে মাসে কয়েক লাখ টাকা তুলছেন ইনচার্জ এসআই মানিক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মানিক এই প্রতিবেদককে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। তবে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জুমায় জুমায় আমি ১০ দিন আমি এই থানায় এসেছি। এখনও কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

SHARE