রাবি শিক্ষকের অনশন

20

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা শাহরিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। এর মাধ্যমে তিনি সারাদেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম, চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ জানান।

অনশনকারী ওই শিক্ষকের নাম ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে তিনি এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করে অবস্থান নেন।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘সারাদেশে চিকিৎসকদের অবহেলা এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা দিন দিন চরম আকার ধারণ করেছে। কিছু কিছু হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে রোগী ও তাদের স্বজনেরা লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে তার সহপাঠীরা হামলার শিকার হন। চিকিৎসাক্ষেত্রে এটা নগ্নতার পরিচয়। আমাদের সবার উচিৎ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এর প্রতিবাদেই আজ আমি অনশনে বসেছি।’

কর্মসূচিতে সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শাহরিয়ারের সহপাঠী হারাধন নাথ আকাশসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনে বসেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ অক্টোবর রাতে বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে যান মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার। পরে তাকে উদ্ধার রামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার সহপাঠীরা চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এসময় হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও আনসার সদস্যরা রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এ নিয়ে হাসপাতাল ও রাবি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। পুলিশ মামলা দুটির তদন্ত করছে।

SHARE