পশ্চিমাঞ্চলের ৬ স্টেশনে বন্ধ টিকিট বিক্রি

30

স্টাফ রিপোর্টার: চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন রেলকর্মীরা। তাই পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ছয়টি স্টেশনে টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৭ অক্টোবর থেকে স্টেশনগুলোতে টিকিট মিলছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

এই ছয়টি স্টেশন পড়েছে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর পর্যন্ত এলাকায়। স্টেশনগুলো হলো- বাঁধেরহাট, কাশিনাথপুর, সাঁথিয়া, রাজাপুর, দুবলিয়া, তাঁতিবন্ধ ও রাঘবপুর। এ রুটে ট্রেন চলাচল করছে। তবে বন্ধ রয়েছে টিকিট বিক্রি। এর ফলে যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন তেমনি সরকারও প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

ওই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন দুবলিয়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, স্টেশনে গেলে এখন টিকিট পাওয়া যায় না। ট্রেনে উঠে টিটিইদের কাছ থেকে টিকিট নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় টিকিট নেওয়ার জন্য টিটিইদেরই খুঁজে পাওয়া যায় না।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেল লাইনটি নতুন। ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন নির্মাণ শেষ হয় ২০১৮ সালে। এ বছরের ১৫ জুলাই নতুন লাইনটিতে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রুটটিতে মোট ১০টি স্টেশন রয়েছে। এ লাইনে প্রতিদিন একটি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ তিনটি ট্রেন চলাচল করে। অস্থায়ী জনবল দিয়ে স্টেশনগুলো চালানো হতো। গত ১৭ অক্টোবর থেকে অস্থায়ী রেলকর্মীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি করছেন। ফলে ছয়টি স্টেশনে টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রেনে উঠে কর্তব্যরত টিটিইদের কাছ থেকে টিকিট নিচ্ছেন। তবে পুরো ট্রেনে মাত্র দুজন টিটিই থাকেন। তারা কয়েকশো যাত্রীকে টিকিট দেওয়ার সময় কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। টিকিট নেওয়ার আগেই অনেক যাত্রী গন্তব্যের স্টেশনে পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে তারা ট্রেন থেকে নেমেও যাচ্ছেন। রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রেল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, অনেকদিন ধরেই রেলে নিয়োগ বন্ধ ছিল। ফলে অস্থায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন রেলে কিছু নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তা দেখে অস্থায়ীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে ছয়টি স্টেশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থায়ী কর্মচারীদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

SHARE