চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউপি চেয়্যারম্যানের দেন দরবারে দেহ ব্যবসার নিষ্পত্তি

63

সাজিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : মেস অর্থাৎ বিভিন্ন লোক যে-ভাড়াবাড়িতে একত্র বাস করে ও আহারাদি করে বা আহার ও বাসের বারোয়ারি স্হান। ছাত্র জীবনের সাথে এ শব্দটি যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছাত্রত্ব থাকাকালীন প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী একবার নাহলেও এই অভয়ারণ্যের স্থানে জীবনের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করেছে।

শিক্ষার আলোর কুপি হিসেবে মেস ও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র আকেঁ ছাত্রছাত্রীদের জীবনে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে আজকাল এই মেস ব্যবসার আড়ালেই গড়ে উঠেছে দেহ ব্যবসা ও মাদক গ্রহনের আস্তানার একাংশ। ঠিক এমনই এক চিত্র ফুঁটে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়া ইউনিয়ের বারঘরিয়া বাজার কাঠফাঁড়া মিলের পার্শ্বে টাওয়ার সংলগ্ন রায়হান ছাত্রাবাসে।

গত ১৪ ই অক্টোবর ২০২২ প্রায় সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে ২ জন নারী ও ২ জন পুরুষের মেসের সামনে ঘুরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা। প্রায় এমন মধ্যবয়স্ক নারী পুরুষের আনাগোনা জনগণের চোখে পড়লেও কেউ ভয়ে বিরুদ্ধে যায় নি কখনো। তবে সেদিন প্রায় ১২ টা নাগাদ তাদের সন্দেহর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পেয়ে চামাগ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে রাসেল ইসলাম স্থানীয় কয়েকজন তরুনদের সাথে নিয়ে মেসের ভেতর গেলে অবৈধ কাজে জড়িতদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। পরবর্তীতে জনসমাগম বেড়ে গেলে মেস মালিক মদুল মাঝির ছেলে সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জনগনের হাতে আটক হয়ে বারঘরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিলে অবস্থানে বাধ্য হয়। জনগনের সামনে মহিলা স্বীকারোক্তি দেয় যে এর আগেও এই কাজে সে এখানে কয়েকবার এসেছে ও টাকার বিনিময়ে তাকে এখানে আানা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের বিক্ষুব্দ আচরণ ও এইসব কাজে জড়িত আসামিদের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহনে তারা পুলিশকে ৯৯৯ কল দিয়ে অবগত করেন। কাউন্সিলে কিছুক্ষনেই এ এস আই মাহবুব আলম উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনগনের দাবিতে আইনি প্রকিয়ায় এগোতে চাইলে তাকে বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান হারুন অর রশীদ পরিষদের দায়িত্বে রেখে চলে যেতে বলেন বলে জানান দায়িত্বরত পুলিশ। এ সময় সাবেক ও বর্তমান কিছু মেম্বার সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাঁধা দেয় বলে বিকেলে চেয়্যারম্যান আসলে তখন বিচার হবে উনি মানা করেছেন। পরবর্তীতে দুপুরের সময় আবারও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে ইউনিয়ন কাউন্সিলের দফাদার পরিচয় দেওয়া গ্রাম পুলিশ মোঃ আহাদ মারমুখী আচরণ করে বলে চেয়্যারম্যানকে কল দেন পারমিশন ছাড়া গেট খুলবো না। এক পর্যায়ে আমি প্রশ্ন করি উনি বিচার করার কে? আইন তো আছে! তখন বলে হারুন চেয়্যারম্যানই এখানকার বিচারক যা পারবেন করেন।

উপরোক্ত বিষয়গুলো মুঠোফোনে চেয়্যারম্যানকে অবগত করলে তিনি অস্বীকার করেন বলেন না আমি এমন কোন আদেশ দেয় নি বরং আমি ব্যস্ত আছি বাইরে। পরবর্তীতে বিকেল ৫ টায় চেয়্যারম্যান হারুন অর রশীদ নিজ দায়িত্বে সালিশ করার সময় মেস সাইদুর রহমানকে বলেন তুমিতো আামার নিজের লোক তাও কেন এইসব করলে! উক্তস্থানে স্থানীয় জনগনকে বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক মন্তব্যের কৌশলে এনে বুঝিয়ে বলে প্রসাশন নিয়ে গেলে তো এক দুই দিনে ছেড়ে দিবে এখানে আর কিছু না হোক সবাই মিলে হাসি খেলে মজা করে বিচার করে দিচ্ছি আমার ১৭ বছর বয়স থেকে বিচার করার অভিজ্ঞতা আছে। অথচ ১৩ সদস্যদের সাবেক ও বর্তমান মেম্বারদের নিয়ে জুরি বোর্ড বসিয়ে বিচারকার্যের রায় আসে মেস মালিক সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার ও অনৈতিক কাজে জড়িত ২ পুরুষ ৬ হাজার টাকা জরিমানা এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া ৮০০ টাকাসহ ১৬৮০০ টাকা বোর্ডে জমা দেওয়া হোক। এ রায়কে সতঃস্ফুর্তভাবে গ্রহন করে চেয়্যারম্যান হারুন অর রশিদ।

জনগণের দাবি ছিল যে এইধরনের কাজ রায়হান ছাত্রাবাসে এর আগেও অনেকবার হয়েছে তাই আগামী মাসের ১ তারিখের মধ্যে ছাত্রদের স্থানান্তর করে তার মেস কয়েকমাসের জন্য বন্ধ করা হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক তখন পরিস্থিতি বেসামাল হলে চেয়্যারম্যান কয়েক ঘা বেতের বাড়ি দিয়ে জোরপূর্বক তার জুরি বোর্ডের রায় ই বহাল রাখে এবং বলে আমার কাছে অভিযোগ প্রথম এসেছে পরবর্তীতে আসলে ব্যবস্থা নিবো। তখন জনগন ক্ষিপ্ত হলে চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের তার ভেতর রুমে নিয়ে গিয়ে ম্যানেজ এর চেষ্টাও করে!

১৫ অক্টোবর সকাল ১১ টায় থেকে বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভিজুয়্যাল বক্তব্যের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলে প্রায় ঘন্টাখানেক পর চেয়্যারম্যান সাক্ষাতের জন্য রুমে ডাকলে তিনি ভিডিও বক্তব্য দিতে না চাইলে তাকে প্রশ্ন করাই তার তোষামোদকারী ব্যাক্তিবর্গের তোপের মুখে পড়তে হয় উল্টো তারাই প্রশ্ন করে আপনার কি চেয়্যারম্যানের বিচার করতে এসেছেন নাকি!

জেলা জজকোর্টের আইনজীবী ডক্টর মোঃ তসিকুল ইসলাম এই বিষয়ে বক্তব্য দেন কোন নারীকে প্রলোভন দিয়ে অনৈতিক কাজে জড়াতে সহায়তা করা বা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকা আইন বর্হিভুত রেপ এর সামিল। এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে আদালত ছাড়া কারও বিচারকার্য পরিচালনার এখতিয়ারে নেই। কোন ইউপি চেয়্যারম্যানের মত একজন জনপ্রতিনিধির এই ধরনের কাজ সঠিক বা গ্রহনযোগ্য নয়।

সুশীল সমাজের দাবি চেয়্যারম্যান হারুন অর রশীদের এই ধরনের বিচারকার্যে পরোক্ষভাবে ইন্ধন পেল ইউনিয়নের এসব অবৈধ মেস ব্যাবসায়ীরা। যার প্রতিফলন অদূর ভবিষ্যৎতে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা পরিপন্থী কাজে উৎসাহিত করবে এবং সুষ্ঠ সামাজিকীকরন ব্যাহত হবে।

SHARE