শাহরিয়ারের ছাদ থেকে পড়ার কারণ খুঁজছে পুলিশ

63

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা শাহরিয়ার (২৩) হলের বারান্দার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। কিন্তু কেন তিনি ছাদ থেকে পড়েছেন সে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। তিনি নিজে ছাদ থেকে ঝাপ দিয়েছিলেন, অসতর্কতায় পড়ে গিয়েছিলেন নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে তা কেউ নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, শাহরিয়ারের ছাদ থেকে পড়ার কারণ খোঁজা হচ্ছে।

গত বুধবার রাত আটটার দিকে হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় ব্লকের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। এ সময় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহরিয়ারের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বেতুড়া গ্রামে।

শাহরিয়ারকে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের একজন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ওপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে রুম থেকে বের হয়ে দেখি, টিউবওয়েলের শানের ওপর শাহরিয়ার রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন তার জ্ঞান ছিল না। সেখানে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

শাহরিয়ারের বন্ধু মেহেদী হাসানের দাবি, এটা আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়। এটা ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হঠাৎই আশ্চর্যজনকভাবে হলের বারান্দা থেকে পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক মৃত্যুর কাতারে পড়ে না। সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ‘শাহরিয়ার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন, এটা সত্য। কিন্তু কীভাবে পড়েছেন সেটা প্রশ্ন। নিজে লাফ দিয়েছেন, অসতর্কতায় পড়েছেন নাকি অন্য কেউ ফেলে দিয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গোপনে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

রামেক হাসপাতালে শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করার পর তার চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন রাবির শিক্ষার্থীরা। সে রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের মারধর করেছেন। চিকিৎসায় অবহেলা ও মারধরের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে পর রাত ২টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফেরেন। তবে এর আগে রাত সাড়ে ১১টা থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। তাদের দাবি, বিক্ষুব্ধ রাবি শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বিকালে অজ্ঞাতনামা ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। পরে সন্ধ্যা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শিথিল করা হয়। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সবাই কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে ইন্টার্নরা আল্টিমেটাম দিয়ে রেখেছেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী রাবি শিক্ষার্থীরা গ্রেপ্তার না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন মামলা রেকর্ড হয়নি। রাজপাড়া থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান জানান, অভিযোগটির প্রাথমিক তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত হবে।

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সমুদ্র দাস বলেন, রাবি শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কাজে ফেরেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আল্টিমেটামের সময় শেষ হচ্ছে। শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দেওয়া রাবি কর্তৃপক্ষও আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। ওই রাতে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজন রাবি শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কারণে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

SHARE