রাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে রামেক হাসপাতাল

39

স্টাফ রিপোর্টার: চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধর এবং ভাঙচুরের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাত ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীর অফিসকক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়। বৈঠক চলাকালেই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছেন।

রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র রফিকুল আলম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেটা এখনও মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। পর্যালোচনা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধরের কারণে আমরা মামলা করছি। ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বৈঠকের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কাজে যোগ দেবেন। জরুরি ওয়ার্ডগুলোতে ইতোমধ্যে চিকিৎসকরা যোগ দিয়েছেন। বাকিগুলোতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে তারা যোগ দেবেন।

রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইমরান হোসেন বলেন, তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার চান। এই সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করবেন। এরপর তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

এর আগে বুধবার রাতে হলের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের কে জি এম শাহরিয়ার। সহপাঠীরা তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুর জেরে হাসপাতালে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রাবি শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তাদের দাবি, তারা শাহরিয়ারকে আইসিইউতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আইসিইউ বেড দেওয়া হয়নি। উল্টো বাগবিতন্ডার জের ধরে রামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাবি শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছেন। এতে অন্তত ছয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে রাবি শিক্ষার্থীরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদেরও মারধর করেছেন বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

রাতে রাবির কয়েকশো শিক্ষার্থী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা যখন এই আন্দোলন করছিলেন, তখন রাত সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেবা দেননি। এতে হাসপাতালে অচালবস্থা দেখা দেয়। যদিও সকালে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা একবার রোগী দেখেছেন।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় হাসপাতাল সভাকক্ষে আলোচনায় বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সভায় একটি তদন্ত কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় রাতেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রাত দেড়টায় তৃপক্ষীয় এই সভা শেষ হয়। কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এমন আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা রাত ২টায় ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

তবে ইন্টার্নদের কর্মবিরতির কারণে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হলো রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাতের কমিটি ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনকে। রাতে গঠন করা কমিটির আহ্বায়ক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী। এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুলিশেরও প্রতিনিধি আছেন। তবে বৃহস্পতিবারের কমিটিতে হাসপাতালের বাইরের কেউ নেই।

রাতে শিক্ষার্থী শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণার পর তার লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল। সকালে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার ময়নাতদন্ত না করেই লাশ গ্রহণ করেছেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শাহরিয়ারের লাশের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর দিনাজপুরের গ্রামের বাড়ি লাশ নিয়ে গিয়েছেন স্বজনেরা। তার মৃত্যুর ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের একজন শিক্ষক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

SHARE