স্বামীর হাতেই প্রাণ যায় তাহেরার

35

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গৃহবধূ তাহেরা বেগম (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাহেরার স্বামী তুষার আলীকে (২৩)। তুষার এ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দীও দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকালে তুষার আদালতে জবানবন্দী দেন।

গ্রেপ্তার তুষার আলী গোদাগাড়ীর মির্জাপুর গ্রামের নজির উদ্দিনের ছেলে। নিহত তাহেরা বেগম গোদাগাড়ীর রাজরামপুর চাতরা গ্রামের দানেশ আলীর মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে তুষার ও তাহেরার বিয়ে হয়। গত ১৫ অক্টোবর গোদাগাড়ীর গড়গড়ি গ্রামের ধান ক্ষেতে তাহেরার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। নিহত তাহেরা ছয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বুধবার রাতে জানান, তাহেরার লাশ পাওয়ার পর তার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে তুষার আলীরই সম্পৃক্ত পায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, তাহেরা বেগম মানসিকভাবে অনেকটা ভারসাম্যহীন ছিলেন। ফলে মাঝে মধ্যে তিনি পাগলামি আচরণ করতেন। এ কারণে তুষার আলী তার স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাহেরা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। গত ১২ অক্টোবর বিকালে তুষার আলী তার স্ত্রীকে কাঁকনহাট বাজারে ডেকে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার দিকে তাঁর স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রাখতে যাওয়ার নাম করে গড়গড়িয়া গ্রামের ধান ক্ষেতের রাস্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নির্জন জায়গায় একটি ফিচার ফোন দিয়ে স্ত্রীর মাথায় সজোরে আঘাত করেন তিনি। এ আঘাতের ফলেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এ সময় মৃতদেহ ধান ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে তুষার আলী পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, ঘটনার আট দিন আগে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছেন বলে তুষার আলী তার শ্বশুর বাড়িতে রেখে যান। সবাই জানতেন তুষার ঢাকায় আছেন। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রাপ্তির মাত্র ঘন্টা দুয়েক সময়ের মধ্যেই তুষার শ্বশুর বাড়িতে উপস্থিত হন এবং কান্নাকাটি শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে উপস্থিতি হওয়া ও তার অসংলগ্ন কর্থাবার্তার বিষয়গুলো তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এগিয়েছে। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, তুষার আলীই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।

ইফতেখায়ের আলম জানান, নিজ স্ত্রীকে হত্যার পর থেকে তুষার রাজশাহীতেই লুকিয়ে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে নিজেকে আড়াল করতে ঢাকায় অবস্থান করার মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছুই স্বীকার করে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

SHARE