রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে বহিষ্কার, সম্পাদককে অব্যাহতি

35

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন অমিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নৈতিক স্থলনজনিত কারণে রানাকে বহিষ্কার করা হলো। একই কারণে অমিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হলো। আর তদন্ত চলাকালে জেলা ছাত্রলীগ বাগমারা উপজেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি দিয়েছে তা অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি সাকিবুল ইসলাম রানার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া এক ফোনকলে পদের লোভ দেখিয়ে দলের এক নারীকর্মীকে মেয়ে পাঠানোর জন্য চাপ দিতে শোনা যায় রানাকে। শুধু তাই নয়, যে কর্মীর সাথে কথোপকথন সেই কর্মীর সঙ্গে রানার অনৈতিক সম্পর্কেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রানার সঙ্গে কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্তও ওই নারীকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অডিও রেকর্ডে উঠে আসে।

ওই রেডর্কে রানাকে বলতে শোনা যায়, চিটারি-বাটপারি করে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন। তিনি সব চিটারের দলের সর্দার। টাকা না দেওয়ায় উপজেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া, মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় মাতলামি করাসহ আরও নানা অভিযোগ আছে রানার বিরুদ্ধে।

সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন অমির ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ফাঁস হয় সম্প্রতি। আটকে রেখে নির্যাতনের পর টাকা আদায়, চাকরি দেওয়ার নামে একাধিকজনের টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ আরও নানা অভিযোগ আছে অমির বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠে, সদ্য বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগ কমিটির ১ নম্বর সহ-সভাপতি রাসেল আহমেদ ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে ঢুকে পড়েছেন।

এসব অভিযোগ সামনে এলে তা তদন্তে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কমিটি গঠন করেছিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। তিন সদস্যের এ কমিটি ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী এসে তদন্ত করে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর সুপারিশসহ প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দাখিল করে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানা, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন অমি, ১ নম্বর সহ-সভাপতি রাসেল আহমেদ এবং ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্তকে বহিষ্কারের জোর সুপারিশ করা হয়।

এরপর ২০ দিন পার হয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ ওঠে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বুধবা রাত ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।

SHARE