খেতুরীধামে শেষ হলো মহোৎসব

17

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেতুরীধামে ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি মহোৎসব শেষ হয়েছে। করোনার পর এবারের আয়োজনে প্রায় দুই লাখ ভক্ত এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ভক্তদের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করেছেন।

তিন দিনের উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা ছিল গত শুক্রবার দুপুরে। এদিন সবচেয়ে বেশি ভক্তদের ঢল দেখা গেছে খেতুরীধামের দিকে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্যে দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়। প্রতিবছরের মতো এবারো এ উৎসবে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের ভক্তদের ঢল নামে। এদিকে এই মহোৎসব ঘিরে এবারও গ্রামীণ মেলা বসেছিল। মেলায় কসমেটিকস, নানা রকমের খাবার এবং ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।

শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্টের সম্পাদক শ্যামাপদ স্যানাল বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুক্রবার মূল মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মহন্তবিদায়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ উৎসবে এবার সনাতন ধর্মের প্রায় দুই লাখ ভক্ত অংশ নিয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তিন দিনের এ আয়োজন শেষ হয়েছে।

ঠাকুর নরোত্তম দাস ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে গোদাগাড়ীর গোপালপুর গ্রামে জন্ম নেন। গোপালপুরে শৈশব পার করে তিনি বৃন্দাবন গিয়ে লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। পরে খেতুর গ্রামে ফিরে আসেন এবং মন্দিরের স্থাপনা গড়ে তোলেন। সেই থেকেই এখানে আসেন তাঁর ভক্তরা। ১৬১১ খ্রীষ্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাসের দেহ গঙ্গাজলে মিলিত হয়ে যায়। এখনও প্রতিবছর দুর্গাপূজার পর দেশ-বিদেশ থেকে তাঁর ভক্তরা আসেন মহোৎসবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম জানান, উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরো এলাকাটিকে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছিল। ফলে শান্তিপূর্ণভাবে এবারের আয়োজনও শেষ হয়েছে।

SHARE