রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন, জমেছে ভোটের প্রচারণা

54

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য প্রার্থীরা দিনরাত ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোট গ্রহণের সময় যত এগিয়ে আসছে প্রার্থীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।

এই নির্বাচনে চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তবে দুজনের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে। অন্য দুজনের তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল (কাপ-পিরিচ) ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতারুজ্জামান আকতার (মোটরসাইকেল) জয় নিশ্চিত করতে সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্য দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল বাদল (তালগাছ) ও আফজাল হোসেনের (আনারস) প্রচারণা চোখে পড়ছে না। ভোটাররা জানিয়েছেন, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে। এ অবস্থায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ দুই প্রার্থী দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো কোন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর তাঁর পক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। মীর ইকবালের জয় নিশ্চিত করতে ভোটের মাঠে নেমেছেন জেলা ও মহানগরের মুক্তিযোদ্ধারাও। ভোট চাইতে বের হচ্ছেন তাঁরাও।

তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আখতারুজ্জামান আকতার জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। আকতারের জন্য ভোটে দলের কেউ কাজ করলে তাঁর পরিণতিও একই হবে বলে জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। ফলে আখতারুজ্জামানের পক্ষে দলীয় কোন নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তারপরও ভোটের লড়াইটা আখতারুজ্জামান ও মীর ইকবালেরই হবে বলে জানা গেছে।

এই নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মিলন মেলা নগরীর মুনলাইট গার্ডেন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিলন মেলায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম প্রমুখ।

মিলন মেলায় আগামী ১৭ অক্টোবর আসন্ন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল-কে কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে সকলে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল-এঁর কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে গতকাল বুধবার পুঠিয়া উপজেলার পুঠিয়া পৌরসভা ও বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদে, চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদে, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলাম। কোন কিছুর প্রত্যাশা করি নাই, আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেয়েছি। আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ঐ পরাজিত শক্তি পাকিস্তানী এদেশীয় এজেন্টরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা ৭৫এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে আরো পিছিয়ে দিয়ে আবারো পাকিস্তানী ধারায় দেশ পরিচালিত হচ্ছিলো। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই আমরা পৃথিবীর উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে আমাদের দেশ বাংলাদেশ অবস্থান করতো কিন্তু সেটা হয় নি, ষড়যন্ত্রকারীরা সেটা চায় নি, তারা চায় নি বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াক। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার কাজে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এদিকে চেয়ারম্যানপ্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার প্রচার চালাতে গিয়ে গতকাল বলেছেন, চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে উন্নয়ন মূলক কাজে নারী এবং পুরুষ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বৈষম্য দুর করা হবে। সকলকে সমঅধিকার দিয়ে তৃনমূল পর্যায়ে জেলা পরিষদের সেবা পৌছে দিতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি। বুধবার রাজশাহী বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিনি তার মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এসব কথা বলেন। মোটরসাইকেল প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করে চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, প্রার্থী হওয়ার পর থেকে নানা বাধাবিগ্ন পেরিয়ে রাজশাহী জেলার সকল জনপ্রতিনিধি ভোটারদের ভালোবাসায় এতদুর এগিয়েছি। এখন পর্যন্ত সম্নানিত ভোটারদের যে সাড়া পেয়েছি তাতে জয় সুনিশ্চিত।

চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার এদিন বাগমারা উপজেলার গবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, সোনডাংঙা, কাচারী কোয়ালী, গনিপুর ও নরদাসসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদসহ ভোটারদের সাথে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করেন। এসময় তার কর্মী সর্মথকরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৭ অক্টোবর রাজশাহী জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। নির্বাচনে চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ২৯ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ১৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। তাঁরাও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ঘুরছেন। দু’একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ।

SHARE