রাবির তাহের হত্যা, মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর স্থগিত

30

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মহিউদ্দিনের রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি বোরহান উদ্দিন গত ৪ অক্টোবর এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আগামী ১৭ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ফলে ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর স্থগিত থাকবে। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ থাকবে।

এর আগে অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ৫ এপ্রিল বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত নাজমুল আলমও রিভিউ আবেদন করেছেন। তাদের আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক আবেদন করা হয়েছে। তবে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুস সালাম রিভিউ আবেদন করেছেন কিনা তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে অধ্যাপক তাহেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেন।

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। এর পর আপিল করেন আসামিরা। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট দুজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে অন্য দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। অন্যদিকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুজনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

SHARE