প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়েছে, লাভ কম প্রতিমা শিল্পীদের

16

স্টাফ রিপোর্টার : দেড় হাজার টাকার শাড়ির দাম বেড়ে হয়েছে আড়াই হাজার। আর ৩৫০ টাকার এক কৌটা রঙের দাম হয়েছে ৬০০ টাকা। এ রকম প্রতিমা তৈরির সব উপকরণেরই দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি প্রতিমার দাম। তাই এবার লাভ কম হচ্ছে প্রতিমা শিল্পীদের। ফলে সারাবছর অপেক্ষার পরও শারদীয় এই দুর্গোৎসবে রাজশাহীর প্রতিমা শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটছে না।

তাঁরা এখন মাথায় লাভ-লোকসানের হিসাব কষতে কষতেই দেবী দূর্গাকে সাজিয়ে তোলার শেষ মূহুর্তের কাজ করছেন। এখন চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সবাই। কিন্তু প্রতিমা শিল্পীদের আশঙ্কা, প্রতিমা হস্তান্তরের পর যখন হিসাবে বসবেন তখন লোকসানের চিত্রই উঠে আসবে। এ কারণে এবার তাঁদের মন খারাপ।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীরা প্রতিমার গায়ে রঙ-তুলির আচড়ের শেষ মূহুর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে প্রতিমাগুলো। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, সারাবছর তাঁদের হাতে তেমন বড় কাজ থাকে না। অন্য সময় লক্ষ্মী, কালীর মতো প্রতিমা তৈরি করলেও তারা অপেক্ষা করেন দেবী দূর্গার আগমনের। করোনার পর এবার দুর্গাপূজায় তাদের ভাল লাভ হবে বলে আশা ছিল। কিন্তু তা হচ্ছে না বিভিন্ন উপকরণের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে।

তাঁরা জানান, প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, রঙ, বাঁশ, আউড়, গয়না, শাড়িসহ প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। তাছাড়া কারখানায় চুক্তিভিত্তিক কারিগরদেরও দিতে হচ্ছে বেশি টাকা। সেই তুলনায় প্রতিমার দাম বেশি নেওয়া যায়নি মণ্ডপ কমিটির কাছ থেকে। সে কারণে প্রতিমা তৈরির কাজ ফিরিয়েও দিতে হয়েছে।

রাজশাহীর প্রতিমা তৈরির কারিগর কার্তিক চন্দ্র পাল ২৬ বছর ধরেই এ পেশায় আছেন। প্রতিবছর তিনি ৩৫ থেকে ৪০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করলেও এবার ২৩টি প্রতিমা তৈরি করছেন। কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, মে মাস থেকে প্রতিমা তৈরি করছি। তা-ও সংখ্যায় কম। সব জিনিসপত্রের দাম বেশি। প্রতিমা তৈরির গয়না ও শাড়ি ভারত থেকে আনতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে যায়। তারপরেও যারা অর্ডার দেন তারা এসব বুঝতে চান না। তাই এবার অন্যবারের চেয়ে অনেক কম কাজ করছি। খরচ উঠবে বলে মনে হচ্ছে না।

নগরীর মিয়াপাড়া এলাকার ধর্মসভা মণ্ডপের কারিগর গনেশ কুমার পালও এবার অন্যবারের তুলনায় কম প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। গনেশ কুমার পাল বলেন, করোনার সময় থেকেই কাজে ভাটা পড়েছে। সবকিছুর দাম বেশি হলেও প্রতিমার দাম কম। আগে প্রতিমা প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকতো, এবার ২ থেকে ৩ হাজার থাকছে। কিছু প্রতিমার ক্ষেত্রে খরচ আর মূল্য সমান হতে পারে, কোনটিতে হতে পারে লোকসান।

নগরীর গণকপাড়া এলকার বৈষ্ণবসভা মন্দিরের কারিগর অরুণ পাল বলেন, এবার কাজ করে লাভের অংক খুঁজে পাচ্ছি না। ২৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। খরচ অনুয়ায়ী লাভ নেই। হতাশার সুরে অরুণ পাল বলেন, যারা আগে অর্ডার দিয়েছেন তারা হিসেব-নিকেশ বুঝবেন না। যত কম পয়সা দেওয়া যায়, ততই তাদের লাভ। কিন্তু আমরা কষ্টে থাকছি।

এবার গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ১ অক্টোবর শুরু হবে মূল পূজা। ৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।

SHARE