হাসপাতাল ছেড়েছেন বিচারক দম্পতি, বিষক্রিয়ার ব্যাপারে মামলা

26

স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্যে বিষক্রিয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া রাজশাহীর বিচারক দম্পতি চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। শনিবার দুপুরের পর তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে খাদ্যে এই বিষক্রিয়ার ব্যাপারে থানায় একটি মামলা করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল অধিকারী (৪২)।

এর আগে শুক্রবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার পর বিচারক জুয়েল অধিকারী (৪২) এবং তাঁর স্ত্রী অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জয়ন্তী রানীকে (৪০) রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। রাজশাহীর রাজপাড়া থানার পার্কের মোড় এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তাঁরা। গত শুক্রবার সকালে নাস্তা করার পর এ বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা।

পরে সকাল দুজনকেই রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিচারক জুয়েল অধিকারীকে ১৭ নম্বর এবং জয়ন্তী রানীকে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে জুয়েলকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয় এবং জয়ন্তী রানীকে ৩ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। ভর্তির সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুজনের অসুস্থতার কারণ হিসেবে লেখা হয় ‘ফুড পয়জনিং’।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শারীরীক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পরদিন দুপুরেই দুজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর বিচারক জুয়েল অধিকারীর পাকস্থলি থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। হাসপাতালের আইসিইউ’র ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে বিষক্রিয়া তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খুব অল্প পরিমাণে বিষক্রিয়া হওয়ায় তা পরীক্ষায় ধরা পড়েনি বলে জানান তিনি।

এদিকে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য বিচারক জুয়েল অধিকারী শনিবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বিচারক জয়ন্তী রানীর ১৩ বছর বয়সী এক ভাতিজি তাঁদের বাসায় থাকত। একটা ছেলের সঙ্গে এই কিশোরীর সম্পর্ক আছে। সকালের নাস্তায় ওই কিশোরী কিছু মিশিয়ে বিচারক দম্পতিকে অসুস্থ করে ওই ছেলেটার সঙ্গে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খাবারের সঙ্গে কী মেশানো হয়েছিল তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরীকেও পাওয়া যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগে ওই ছেলেটারও নাম আছে। এ ব্যাপারে তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন। দুজনের খোঁজ করছেন। এ ব্যাপারে দ্রুতই থানায় মামলা হবে বলেও জানান ওসি জাহাঙ্গীর আলম।

SHARE