পুলিশ-প্রশাসন সরিয়ে দিলে আ.লীগ কতক্ষণ টিকবে, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

60

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশ-প্রশাসন সরিয়ে দিলে আওয়ামী লীগ কতক্ষণ টিকে থাকবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘এত দমন-পিড়ন স্বত্বেও আমাদের একটা ছোট্ট সভায় যেভাবে মানুষ ছুটে আসে সেটা বাংলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক দলের ডাকে আসে না। তাই পুলিশ-প্রশাসন যদি সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আওয়ামী লীগ কতক্ষণ টিকে থাকতে পারবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন।’

শনিবার রাজশাহীতে ‘জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরবর্তীতে জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেল শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ সরকার কখনও বিশ্বাস করেনি। এখনও করছে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, তাকে আওয়ামী লীগের মতো একটি একদলীয় সরকারে বিশ্বাস করা, বাক-স্বাধীনতা, সুশাসন, মানুষের অধিকার, ন্যয় বিচার দিতে ব্যর্থ হওয়া আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ের আন্দোলন এবং ফ্যাসিস্ট, একদলীয়, বিভৎস, জালিম সরকারের সময়ের আন্দোলন কখনই একরকম হয় না। বিএনপি গত ১৫ বছর ধরে আন্দোলনের মধ্যে আছে।’

নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে আমরা হারিয়েছি এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে, অসংখ্য নেতাকর্মী বিচার বহির্ভুত হত্যা, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড লেভেলের একেকজনের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। সুতরাং বিএনপি আন্দোলনের মধ্যে আছে এবং বিএনপি প্রতিনিয়ত শক্তিশালী থেকে শক্তিতর হচ্ছে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, আমরা রাজনীতিবিদরা আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবি। আর যারা রাষ্ট্রনায়ক তারা ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে, ১০০ বছর পরে দেশ কোথায় যাবে সেটা নিয়ে। আমাদের সৌভাগ্য যে তারেক রহমানের মতো একজন নেতা আমাদের দলের হাল ধরেছেন যিনি আগামীর রাষ্ট্রনায়কের মতো চিন্তা করছেন। ১০০ বছর পর বাংলাদেশ কোথায় যাবে এবং তারই সূচনা হিসেবে জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট। এটা তারই একটা নজির।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশের নির্বাচন কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকেই বলা হয়, দিনের ভোট নাকি রাতে হয়। নির্বাচন কমিশনই বলে, আমাদের গোপন কক্ষে ভূত দাঁড়িয়ে থাকে। তাঁরাই হচ্ছে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে নেয়, এই দেশে নির্বাচন বলতে আর কোন কিছুই অবশিষ্ট নাই। নির্বাচন কাঠামো, আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার ব্যাপারে আমার কথা হচ্ছে, রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগ আলাদা থাকবে। এদের অধীনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তারা স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে এবং শক্তিশালীভাবে কাজ করবে। একটি বিভাগ, আরেকটি বিভাগের ওপরে কোন খবরদারি করতে পারবে না।’

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখি, ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো চায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যতদূর সম্ভব দুর্বল করে ফেলতে এবং দলীয়করণ করতে। আইন বিভাগ রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণ করে। পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখা গেছে, এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার চেয়ে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ব্যালেন্স রক্ষার জন্য অনেক অনেক বেশি কার্যকর। সেই কারণেই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দরকার। কারণ, সরকারের একার পক্ষে দুইটা কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ভীষণ কঠিন।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি। সঞ্চালনায় ছিলেন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রাখেন।

SHARE