মোবাইল ফোন উদ্ধারে আস্থা বাড়ছে আরএমপির

46

স্টাফ রিপোর্টার: হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ওপর আস্থা বাড়ছে নগরবাসীর। আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় তিন সপ্তাহে ১০০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করে আবার মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এই কাজে বিভিন্ন থানাকে তথ্য-প্রযুক্তিগত সকল সহায়তা করে আসছে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট। আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক ডিজিটাল মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ দমনে ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইউনিট ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চুরি, ছিনতাই-ডাকাতিসহ হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে সাফল্য দেখিয়ে আসছে। তাই এখন রোজ গড়ে ২০টি করে মোবাইল ফোন উদ্ধার করার আবেদন আসছে।

এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন আবু সাঈদের হাতে দুই দিন আগে হারানো মোবাইল উদ্ধার করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, তার ছোট ভাই নাফিস ইকবাল মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলে। এ নিয়ে তিনি মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মতিহার থানা পুলিশ মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের উদ্যোগ করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে আবেদন করে। ৯ মাস পর আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্য প্রযুক্ত ব্যবহার করে জানতে পারে, হারানো মোবাইল ফোনটি ঢাকার এক ব্যক্তি ব্যবহার করছেন।

পরে মতিহার থানা পুলিশ মালিকানার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনলাইনের মাধ্যমে পাবনার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোনটি কিনেছেন। পরবর্তীতে তিনি চোরাই ফোন কিনেছেন জানতে পেরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মতিহার থানায় সেই মোবাইল ফোনটি পাঠিয়ে দেন। এরপর ফোনটি মতিহার থানা পুলিশ মালিকের কাছে হস্তান্তর করে।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, চলতি মাসেই আরএমপি’র ১২ থানা ও মহানগর ডিবি পুলিশকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০০টি মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রযুক্তিগত তথ্যাদি সরবরাহ করে সহায়তা করা হয়েছে। ফোনগুলো উদ্ধার হয়েছে। এখন গড়ে প্রতি দিন প্রায় ২০টি করে মোবাইল ফোন হারানো জিডির তথ্যাদি চেয়ে আবেদন আসছে। এমনকি পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতেও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য সরবরাহ করছে আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তাদেরও সহায়তা করা হচ্ছে।

তাই মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হলে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন উৎপল কুমার চৌধুরী। এর প্রেক্ষিতেই ফোন উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানান তিনি।

SHARE