আরটিজেএ’র মানববন্ধন : আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলন

17

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা। রোববার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ হুশিয়ারি দেওয়া হয়। রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ) নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধন থেকে মামলার তদন্ত সংস্থা হিসেবে পুলিশের প্রতি অনাস্থার কথা জানিয়ে সাংবাদিকরা অন্য কোন সংস্থাকে দিয়ে মামলা তদন্ত করানোর দাবি জানান।

এতে সংহতি প্রকাশ করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহী থিয়েটার, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, কোথাও সহিংসতা হলে পুলিশ ও সাংবাদিক একসঙ্গেই কাজ করে। পুলিশ আক্রান্ত হলে সাংবাদিকরাই সবার আগে এগিয়ে যায়। রাজশাহীতেই এ রকম অনেক নজির আছে। অথচ এখন সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। সমাবেশ থেকে র‌্যাবসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এ ব্যাপারে তৎপরত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বিএমডিএ’র কারণে গত মার্চে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই কৃষক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছিল। কিন্তু বিএমডিএ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। সেটি সম্ভব হয়নি সাংবাদিকদের কারণেই। কারণ, সাংবাদিকরা সত্য ঘটনাটা জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন। এই ক্ষোভ থেকেই বিএমডিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাই সাংবাদিকরা এখন থেকে তাঁদের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর আরও বেশি বেশি প্রচার করবেন বলে মানববন্ধন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল। বক্তব্য দেন- রাজশাহী সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রাশেদ রিপন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। পরিচালনায় ছিলেন বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য বদরুল হাসান লিটন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জিয়াউল গণি সেলিম ও সাইফুর রহমান রকি।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) চলাকালে বিএমডিএ কার্যালয়ের সামনে হামলার শিকার হন এটিএন নিউজের রাজশাহী প্রতিনিধি বুলবুল হাবিব ও ক্যামেরাপার্সন রুবেল ইসলাম। বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদের নির্দেশে কর্মচারীরা এ হামলা চালান। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিএমডিএ।

তবে ঘটনার পর রাতেই বুলবুল হাবিব সাতজনের নাম উল্লেখসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা এখন ঢাকায় গিয়ে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ তাদের জামিন আবেদন গ্রহণই করেননি। এ জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে উচ্চ আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা।

এই মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, দৈনিক গণধ্বনি প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ইয়াকুব শিকদার, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন, নারীনেত্রী সেলিনা বেগম, আরটিজেএ’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, একাত্তর টিভির ব্যুরো চিফ রাশিদুল হক রুশো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুরুজ্জামান খান, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি মেহেদী হাসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা তামিম সিরাজী, মাছরাঙা টিভির ক্যামেরাপার্সন মাহফুজুর রহমান রুবেল প্রমুখ।

SHARE