প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক সংকট

48

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলার ৪২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও নেই। প্রধান শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর সহজে আর নতুন প্রধান শিক্ষক মিলছে না। কোন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। এতে নানা রকমের সমস্যা হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমও। এ অবস্থায় দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকেরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার ৯ উপজেলা ও মহানগরে এখন মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭টি। এরমধ্যে ৪৩৮টি স্কুলে এখন প্রধান শিক্ষক আছেন। আর ১৯৩টি স্কুলে আছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এছাড়া মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ছয়টি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব স্থগিত রয়েছে। অন্য ৪২০টি স্কুলে কোন প্রধান শিক্ষকই নেই। এসব স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেউ নেই। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কথামতো চলছে স্কুলগুলো।

প্রধান শিক্ষক না থাকা ৪২০টি স্কুলের মধ্যে নগরীর বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসের অধীনে আছে আটটি। এর বাইরে গোদাগাড়ী উপজেলার ৩১টি, চারঘাটের ৪৫টি, তানোরের ৭২টি, দুর্গাপুরের ৩১টি, পুঠিয়ার ৩৯টি, পবার ৩৩টি, বাগমারার ১০১টি, বাঘার ৩০টি ও মোহনপুরের ৩০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। স্কুলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। যে ১৯৩ স্কুলে সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরাও নানারকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রশাসনিক কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেলেনা পারভীন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে এখন কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। আমিই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে বেগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।’

শিক্ষকেরা জানান, স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রতি মাসেই বাড়ছে। প্রতি মাসেই কেউ না কেউ অবসরে যাচ্ছেন, কিন্তু নিয়োগ হচ্ছে না। আবার জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষকও করা হচ্ছে না। ফলে সংকট কাটছে না। এতে স্কুলগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় এখন শিক্ষক সংকট বড় আকার ধারণ করেছে।

তাঁরা আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার ব্যবধান অনেক। একজন শিক্ষককে একাধিক দায়িত্ব নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকেরা চাইলেও ক্লাসে সবার প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন না। ফলে শিক্ষার্থীরাও ভালো শিখতে পারে না। বেশি সমস্যায় পড়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা। তারা বাইরে কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ে এগিয়ে যেতে পারে না। অভিভাবকেরাও দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত দিয়েও তো ভাল কাজ হয় না। সংকট থেকেই যায়। সংকটের কথা জানিয়ে আমরা প্রতিমাসেই ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখছি। কর্তৃপক্ষ সবই জানে। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ চাইলেই সংকট দূর হবে। আমরা আমাদের জানানোর কাজটা করছি।’

SHARE