শাহ মখদুম দরগাহ মসজিদে ইমান ও আমল সম্পর্কে বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

20

অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শাহ মখদুম (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদে ইমান ও আমল সম্পর্কে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি শাহ মখদুম দরগা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যান। সেখানে খুতবার আগে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম খুতবার আগে মসজিদের মিম্বারে ওঠেন।

এ সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন- ‘ইমান বা বিশ্বাসের মূল্য আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে দামি। তাই তো মুসলমানের কাছেও ইমানের চেয়ে মহামূল্যবান আর কিছুই নেই। ইমানের ওপর ভিত্তি করে মানুষের দুনিয়া ও পরকালের সব হিসাব-নিকাষ চূড়ান্ত হবে।

ইমান উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায়। যেমন- নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়; নামাজ মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল ও অপছন্দনীয় কাজ থেকে রক্ষায় আত্মশুদ্ধি ও আত্মার উন্নতি সাধনে প্রভাব বিস্তার করে থাকে’।

তিনি বলেন ‘আসুন উত্তম চরিত্র, নীতি নৈতিকতার মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবন, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনকে সুন্দর থেকে সুন্দরতর করে তুলি। যাতে করে একটি সুখি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে ওঠে। উত্তম চরিত্র ইমানকে পরিপূর্ণ করে। চারিত্রিক সৌন্দর্য অর্জন না করে ইমানের সৌন্দর্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

মহান আল্লাহ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোৎকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী করে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” -সুরা আল কলম : ৪ ইমান হচ্ছে ইসলামের প্রাণ আর ‘আমলে সালেহ’ বা নেক আমল তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। প্রাণ ছাড়া কোনো জীবের অস্তিত্ব কল্পনা করা যেমন বৃথা, তেমনি ইমান ছাড়া নেক আমলের কল্পনা করা বৃথা’।

‘মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সেরা মাখলূক হিসেবে। তাই মানুষ যখন এক আল্লাহ তায়ালার সামনে মাথা নত করে তখন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। হাদিসে বলা হয়েছে, “যে আল্লাহর জিকির করে আর যে করে না, তাদের তুলনা হচ্ছে জীবিত আর মৃত মানুষের ন্যায়।” (সহিহ বুখারি-৬৪০৭)’।

জামায়াত যত বড়ো হবে নামাজ কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সব বিষয়েই আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করতে হবে। সকলকে সাথে নিয়ে জামায়াতের সাথে নামাজ পড়তে হবে। পাঁচটি উপাদান ইমানকে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এগুলো মেনে আল্লাহর প্রতি আনা ইমানকে আরও দৃঢ় করতে হবে

। নিজের অবস্থান বিবেচনা করতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান বাড়াতে হবে। আল্লাহকে ভয় পেতে হবে। ইসলামিক বই পড়তে হবে। আলোচনা করতে হবে। জ্ঞান, বিদ্যা ও মেধা প্রয়োগ করে তা কাজে লাগাতে হবে’।

তিনি সূরা বাকারার-৪৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন – পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে নামাজ পড়তে হবে। নামাজ ইমানের পরিপূর্ণ। নামাজ ইমানকে আরও মজবুত করে। আর হারাম থেকে দূরে থাকতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা যাবে না।
ইমান মজবুত করার উত্তম উপায় হলো- আল্লাহকে ভয় করতে হবে। দিনদার ও ইমানদারগণের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

SHARE