পরিদর্শনের কথা সকালে, রাতেই এলেন মন্ত্রী

19

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বুধবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের ৭ ও ৩১ নম্বরসহ কয়েকটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী চিকিৎসার ব্যাপারে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলেন।

পরে রামেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। রামেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরেও মন্ত্রী রাজশাহীর আট জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় রামেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে শুধু মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা করার কথা ছিল। পরদিন সকালে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখার কথা ছিল তাঁর। তবে বুধবার রাতেই তিনি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

অবশ্য মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতি রেখেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সবগুলো ওয়ার্ড, বারান্দাসহ পুরো হাসপাতালই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছিল। রোগীদের বিছানায় বিছানায় ছিল নতুন চাদর। ময়লা-আবর্জনার কোথাও কোন চিহ্নও ছিল না। বৃহৎ এই হাসপাতালের এমন সুন্দর পরিবেশ দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে রোগীর স্বজনদের রাতে থাকার আলাদা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে আপত্তি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ৭ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনি এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী জানতে চান, রাতে রোগীর স্বজন কোথায় থাকেন। তখন ওই স্বজন জানান, রোগীর শয্যার পাশে মেঝেতে বিছানা পেতে ঘুমান। এ সময় মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোথাও রোগীর স্বজনেরা এভাবে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকেন না। রোগীর স্বজনদের থাকার ভাল জায়গা করতে হবে। কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতামত চান তিনি। তাদের মতামতের প্রেক্ষিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীকে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বিছানার চাদর পরিষ্কারটাও আধুনিক করতে হবে। তিনি বলেন, ‘যেখানে যাই সেখানেই দেখি খোলামেলা জায়গায় চাদর ধোয়া হচ্ছে। এটা বন্ধ করে ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করতে হবে।’

মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও রামেক হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

SHARE