শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

57

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্যদেরকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তাঁরা এ ঘোষণা দেন।

এর আগে রোববার সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি খেলায় মুখোমুখি হয় ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ এবং ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)। এ সময় রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়ায়। এ সময় ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোইজুর রহমানের জার্সির কলার ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করেন আইবিএ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সিনহা। এতে ওই শিক্ষকের জার্সিটি ছিঁড়ে যায়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য রোববার বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানবববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে সংবাদ সম্মেলন ভেস্তে যায়। তবে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এর আগে কৃষি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্ত্বরে আসেন।

কর্মসূচিতে বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও আইবিএ’র শিক্ষার্থী আবু সিনহাকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা, ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরকে শাস্তির আওতায় আনা এবং আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালীন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আবু সিনহা বলেন, ‘ওই শিক্ষকই প্রথমে আমাদের খেলোয়াড়দের মারধরের নির্দেশ দেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এতে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সেই সংঘর্ষের ভিতর শিক্ষক ছিল কিনা না আমি বুঝতে পারিনি। তবে যখন তিনি পরিচয় দেন তখন আমরা সেখান থেকে আমরা চলে আসি। এর বেশি কিছু না।’

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহুরুল আনিসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

SHARE