স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সারোয়ার জাহান। চোখের আলো ফেরাতে গিয়ে চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পাচ্ছেন না। তার সহপাঠীরা বিষয়টি জানার পর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সারোয়ারের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের জন্য ছুটে যাচ্ছেন তার সহপাঠীরা।
সারোয়ারের চোখের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় লক্ষাধিক টাকা। সেই টাকা তুলতে মানুষের দ্বারে গিয়ে হাত পাতছে তার সহপাঠীরা। ‘একটি মানবিক আবেদন’ লিখা স্টিকার সম্বলিত একটি বক্সে ওই শিক্ষার্থীর সমস্যা তুলে ধরে রাজশাহী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অর্থ সহায়তা চাইতে দেখা গেছে পরিসংখ্যান বিভাগের বেশকিছু শিক্ষার্থীকে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারোয়ার কাটাখালী চকবিলবাড়িয়া এলাকার মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। তার মায়ের সংসার বলতে এখন তিনি আর তার মা। অন্য ভাইগুলো আর কেউ খোঁজ নেন না।
সারোয়ার হোসেন জানান, হাইপার টেনশন ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে ২০২১ সালের প্রথম দিকে তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর রাজশাহীতে চিকিৎসা শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ আই হসপিটালে অপারেশন করান। তার রেটিনা মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ডাক্তার আবারও অপারেশনের জন্য বলেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা পারছেন না।
তিনি আরও জানান, চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তিনি এখন নিঃস্ব। তিন লাখ টাকার অধিক এরইমধ্যে খরচ করেছেন। এখন আরেকটি অপারেশনের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন। একদিকে অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসার স্থবিরতা, অপরদিকে দিন দিন অন্ধত্বের দিকে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাজশাহী কলেক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।
রাজশাহী কলেজ পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আব্দুল হাদি বলেন, বন্ধু অসুস্থ শুনে আর বসে থাকতে পারিনি। বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সাহায্যের জন্য গিয়েছি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড.আব্দুল মজিদ আকন্দ স্যারের তত্ত্বাবধানে এ অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তারা এ পর্যন্ত ২২ হাজার ১১৮ টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আরও যতটুকু সম্ভব করবেন বলেও জানান হাদি।