বিএমডিএতে লাইভে থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলা

34

স্টাফ রিপোর্টার : বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কর্মকর্তারা সরকারের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় অফিসে আসেন না। এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হচ্ছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এটিএন নিউজের সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে ক্যামেরা ও বুম।ক্যামেরা ভেঙে ফেলার কারণে এটিএন নিউজের লাইভ বন্ধ হয়ে যায়।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরেন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হওয়ার পর এটিএন নিউজের রাজশাহী প্রতিনিধি বুলবুল হাবিব ও ক্যামেরাপারসন রুবেল ইসলাম চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গিয়েছেন। থাপ্পড় দেওয়ার কারণে ক্যামেরাপারসন রুবেল কানে শুনতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন রিপোর্টার বুলবুল হাবিব।
আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে এড়ড়মষব ঘবংি ফিডটি অনুসরণ করুন

বুলবুল হাবিব জানান, তাঁরা বিএমডিএ থেকে লাইভ দিয়ে দেখাচ্ছিলেন যে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টায় অফিসে আসেন না। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লাইভ চলাকালেই আসেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশীদ। তিনি এসেই বলেন, ‘কার অনুমতি নিয়ে ভিডিও করা হচ্ছে?’ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নিজের কার্যালয়ে যান।

এরপর কিছু কর্মচারীকে নিচে পাঠিয়ে হামলা চালানো হয়। লাইভ চলাকালেই বুলবুল হাবিব ও রুবেলকে মারধর শুরু করা হয়। ক্যামেরা ও বুম কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে তারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান।

এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা। এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনার রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা বিএমডিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে। এসময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সহকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিএমডিএ’র নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার সহকর্মীর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএমডিএ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পুরোপুরি হরণ করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তারা শুধু বাধাই দেয়নি। তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএমডিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। অকথ্য ভাষায় করা হয়েছে গালাগাল। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি অনতিবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় বিএমডিএ’র বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ ফোন রিসিভ করেননি।

আর বিএমডি’র চেয়ারম্যান আখতার জাহানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে বলেন ,‘ম্যাডাম ব্যস্ত আছেন বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’

SHARE