গ্র্যাচুইটি না পেয়ে মানবেতর জীবন

15

স্টাফ রিপোর্টার: অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের টাকা দিতে পারছে না রাজশাহী চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ব এই চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এখন মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। চিনিকল থেকে এখন ২৩৩ জনের গ্র্যাচুইটির পাওনা ২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা একেকজন পাঁচ থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন। চিনিকল কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে এই টাকা দিতে না পেরে মাঝে মাঝে ১০-১৫ হাজার টাকা করে দিচ্ছে। কিন্তু আয়ের অন্য কোন পথ না থাকায় এই টাকায় তাঁদের সংসার চলছে না। তাঁরা একসঙ্গে সমস্ত পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

এ দাবিতে ‘অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির’ ব্যানারে শুক্রবার বিক্ষোভ-সমাবেশও হয়েছে। শনিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানে চিনিকলের সামনে তাঁরা এই বিক্ষোভ করেন। আজ রোববার বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের এই চিনিকল পরিদর্শনে আসার কথা আছে। তিনি এলে তাঁর কাছেও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকেরা পাওনা পরিশোধের দাবি জানাবেন। এ জন্য সংঘবদ্ধ হতে আগের দিন চিনিকলের সামনে এই বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

চিনিকলের টারবাইন অপারেটর ছিলেন আবদুস শুকুর। তিনি জানান, গ্র্যাচুইটির টাকা না পাওয়ার কারণে তিনি অবসর নেওয়ার পর মানবেতর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই মূহুর্তে গ্র্যাচুইটির টাকা পেলে তাঁর উপকার হবে। কিন্তু কবে সব টাকা পরিশোধ করা হবে সে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না কেউ।

ট্রান্সপোর্ট চালক হিসেবে অবসর নেওয়া ইসলাম আলী বলেন, ২০১৫ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যেসব কর্মচারী, শ্রমিক এবং কর্মকর্তারা অবসর নিয়েছেন তাঁরা কেউ গ্র্যাচুইটির সব টাকা পাননি। মাঝে মাঝে ১০-১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এই টাকায় সংসার চলে না। পরিবার-পরিজন এখন অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এএসএম মুতিউল্লাহ বলেন, ‘অবসর নেওয়ার পর আমরা যে টাকা পাব সেই টাকা নিয়ে অনেকের অনেক পরিকল্পনা থাকে। বৃদ্ধ বয়সে এই টাকাটাই অনেকের অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। এতদিন ধরেও টাকাটা না পাওয়া দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে সব টাকা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ঈদুল আজহার সময় অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে টাকা দিলে ছয়-সাত লাখ টাকা পেতে কত বছর সময় লাগবে? অনেকের জীবন শেষ হয়ে যাবে, মৃত্যুর আগে তাঁর টাকা দেখে যেতে পারবে না। অনেকের ক্ষেত্রে এটা হয়েছেও। টাকা না পেয়ে বিনাচিকিৎসায় মারা গেছে। এটা তো হতে পারে না। দ্রুত টাকা পরিশোধ করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

জানতে চাইলে রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাসার বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের এই সংকটের কথা চিনিশিল্প করপোরেশনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও জানেন। তহবিলে টাকা না থাকার কারণে দেওয়া যাচ্ছে না। করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাজশাহী আসছেন, কীভাবে কী করা যায় সেটা নিয়ে আলাপ করা হবে।’

SHARE