বাস নামতেই থামলো অটোর আন্দোলন

34

স্টাফ রিপোর্টার: দুই দিন ধরে রাজশাহী শহরে বন্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল। রোববার হঠাৎ করেই ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে অটোরিকশা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন চালকেরা। সোমবারও বন্ধ ছিল অটোরিকশা। ফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এ ভোগান্তি ‘দূর করতে’ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে সিটি সার্ভিস বাস চলাচল। এরপর বিকাল থেকে অটোরিকশাও চলাচল করতে দেখা যায়। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বাস মালিকপক্ষ বলছে, নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করতে ৩০টির মতো বাস নামানো হয়েছে। শহরে বাস নামানোর এ সিদ্ধান্ত সাময়িক। অটোরিকশা এলে বাস তুলে নেওয়া হবে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অটোরিকশা চলাচলের কারণে যানজট এবং চালকদের নৈরাজ্যের কারণে সিটি সার্ভিস বাসের দাবি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের। সোমবার বাস চলতে দেখে অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

পরিবেশবান্ধব এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালের দিকে শহরে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেন। এখন অটোরিকশা চালকদের নির্ধারিত ফি দিয়ে রাসিক থেকে নিবন্ধন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়। এগুলো হালনাগাদও করতে হয় বছর বছর। শহরে বৈধ ও অবৈধ মিলে প্রায় ১৯ হাজার অটোরিকশা চলে।

এসব অটোরিকশার চালক ও মালিকদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে দুটি সংগঠন। তাদের মধ্যস্থতায় গত বছরের জানুয়ারিতে অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানো হয়। এখন আবার ভাড়া বাড়ানোর জন্য রোববার থেকে চালকদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সে বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতো না সংগঠন দুটি। রোববার চালকেরা নগর ভবন ঘেরাও করতে এসে দাবি করেন, তাদের কোন ‘নেতা’ নেই। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা নিজেরাই ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তবে সোমবার একটি নতুন সংগঠন ও নেতৃত্বের কথা জানা গেছে। গোপনে গোপনে এই সংগঠন করে সংঘবদ্ধ হয়েই আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অটোরিকশা চালকদের নতুন একটি সংগঠনের তথ্য যায়। ‘ইজিবাইক শ্রমিক চালক সমিতি’ নামের এই সংগঠনের একটি কমিটির তালিকাও পাওয়া গেছে। ২২ সদস্যের এই কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে এক নম্বরে রয়েছে রাসিকেরই প্রভাবশালী এক কাউন্সিলরের নাম ও মোবাইল নম্বর। এ ছাড়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সবার নাম ও মোবাইল নম্বর এতে আছে।

তবে এই কমিটির বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় এখন কেউ ফোন ধরছেন না। এই কমিটি উপদেষ্টা হিসেবে নাম থাকার বিষয়ে কথা বলতে ওই কাউন্সিলরকে তিনবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও এক সদস্যকে ফোন করা হলেও ধরেননি। তবে সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশে লেখা মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে ফোনটি রিসিভ করে বলা হয় ‘রং নাম্বার’।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ও ইজিবাইক-অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়ক সরিফুল ইসলাম বাবু জানান, চালকদের নতুন এই সংগঠনের কমিটির তালিকা তারাও দেখেছেন। হঠাৎ গোপনে এই কমিটি করা হয়েছে আগের দুই সংগঠনকে বাদ দিয়ে। তবে এ সংগঠন ভাড়া বাড়ানোর জন্য যেভাবে আন্দোলন শুরু করেছে তা নিয়মতান্ত্রিক নয়।

রোববার চালকেরা প্রায় দুই ঘণ্টা ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সোমবারও প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। তবে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগর ভবনের বাইরে থাকায় দুই দিনই তারা দুপুরের দিকে ফিরে যান। সোমবার শহরে বাস চলাচল শুরু হওয়ার পর বিকাল থেকে অটোরিকশাও চলতে দেখা যায়।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, ‘অটোরিকশা বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তাদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করেই শহরে বাস নামানো হয়েছে। তবে এটা সাময়িক সিদ্ধান্ত। অটোরিকশা যদি আবার আসে তাহলে তো বাস চালানোর জায়গা পাওয়া যাবে না।’

নগরবাসী সিটি সার্ভিস চায়, এমন প্রশ্নে টিটো বলেন, ‘মানুষ যদি চায় তাহলে মেয়রকে জানাবে, প্রশাসনকে জানাবে। তাঁরা যদি আমাদের বাস চালাতে বলেন তাহলে আমরা এটা নিয়মিত করব। প্রতিদিন শহরের সব রুটে সারাক্ষণ বাস চালানোর মতো সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে সবার কথা ভাবতে হবে। এটা তো অটো চালকদেরও রুটি-রুজির ব্যাপার।’

রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) সিটি করপোরেশনের ইজিবাইক-অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভা আছে। সেখানে আমরা সার্বিক বিষয় আলোচনা করব। সভায় অটোরিকশার আগের দুই সংগঠনের নেতারা থাকবেন। নতুন যারা আন্দোলন শুরু করছে তাদের তো আমরা চিনিই না। ওরা থাকবে না।’

সিটি সার্ভিস সমর্থন দিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা চালকেরা যেভাবে আন্দোলন শুরু করে তা একেবারেই নিয়মতান্ত্রিক না। হুট করেই তারা অটো বন্ধ করে মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। সুযোগ পেলেই তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সুন্দর শহর রাজশাহীর ভাবমূর্তি নষ্ট করে। কিন্তু আমাদের মেয়র পরিবেশবান্ধব এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে অটোরিকশা দিয়েছিলেন। তাই সিটি সার্ভিসের বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্য করছি না। সবকিছু আসলে মঙ্গলবারের সভার পরেই বলা যাবে।’

SHARE