সহকারী শিক্ষককে কান ধরিয়ে ওঠবসের অভিযোগ অস্বীকার ম্যানেজিং কমিটির

11

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। তারা দাবি করেছেন, ফেসবুকে প্রধান শিক্ষকের ছবি দেওয়ায় ওই নারী শিক্ষককে বকাঝকা করা হয়েছে। তবে কান ধরে ওঠবস করানোর মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। রোববার সকালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ দাবি করেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী এক সহকারী শিক্ষককে স্কুলে কান ধরে ওঠবস করান বলে অভিযোগ ওঠে। স্কুলের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজের সামনে তাকে এভাবে হেনস্থার অভিযোগ তুলে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্ত করছে শিক্ষা অফিস।

এরমধ্যেই রোববার সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মুশফিকুর রহমান রাসেল বলেন, এই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সংবাদগুলোতে প্রকৃত সত্য উঠে আসছে না। ওই সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসীর ছবি ব্যবহার করে অশালীন, নোংরা চারটি টিটিকটক ভিডিও তৈরী করে প্রচার করছিলেন। তিনি এসব অশালীন ভিডিও তৈরী করে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের দেখিয়ে হাসাহাসি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষকের একাধিক ব্যক্তিগত ছবি ‘মাই ষ্টোরী’তে আপলোড করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করা সত্বেও তিনি এধরনের কার্যকলাপ অব্যাহত রাখেন। প্রমাণ হিসেবে ১৬ মিনিটের একটি ভিডিও আছে।

তিনি বলেন, গত বুধবারও প্রধান শিক্ষক এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময়ে এলাকার প্রবীণ বিদ্যোৎসাহী বিদ্যালয়ের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজকে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অবগত করেন। ওই সহকারী শিক্ষক আবদুল আজিজকে চাচা বলে ডাকেন। তাই তিনি ওই শিক্ষককে সামান্য বকাঝকা করেন। এ সময় শিক্ষকদের কেউ কেউ তাঁকে সতর্ক করে বলেন, এমন কর্মকাণ্ড চাকুরীবিধি পরিপন্থী ও সাইবার অপরাধের মধ্যে পড়ে। প্রধান শিক্ষক চাইলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগতব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এতেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন যে, তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। বিভিন্ন রকম কথা বলে তাঁর প্রকৃত অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ বলেন, ওই নারী শিক্ষক রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। তিনি চাকরির আবেদন করেন পবা উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে। ওই সময় তিনি আবদুল আজিজকে চাচা দেখিয়ে তাঁর পবার বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেন। এটি একটি জালিয়াতি। আবেদন করার পর আবদুল আজিজ বিষয়টি জেনেছিলেন। তাই আর কিছু বলেননি। তিনি চাচা ডাকেন বলেই সেই অধিকারে ওই শিক্ষককে বকাঝকা করেন। কিন্তু এখন তিনি ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও দাবি করেন যে, স্কুলশিক্ষককে কান ধরে ওঠবসের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনাই ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষক। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা। তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে এবং এর সাক্ষীও আছে।

জানতে চাইলে পবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্ত করতে পাঠিয়েছিলাম। গত বৃহস্পতিবার তিনি তদন্ত করেছেন। এরপর ছুটি ছিল। রোববার প্রশিক্ষণের জন্য আমি বগুড়ায়। রিপোর্ট হাতে পাইনি। তাই তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা জানি না। আমার হাতে রিপোর্টটা আসার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাঠে পাঠাব।’

SHARE