প্রক্সিতে চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, ভাইভায় গিয়ে ধরা!

31

স্টাফ রিপোর্টার: চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ডাক পড়েছে মৌখিক পরীক্ষায়। ভাইভা বোর্ডে কর্মকর্তারা চাকরিপ্রার্থীকে লিখতে বললেন। চাকরিপ্রার্থী লিখলেন। কিন্তু পরীক্ষার খাতার হাতের লেখার সাথে এখনকার লেখার কোন মিলই পাওয়া গেল না। রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদের চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এভাবেই এক চাকরিপ্রার্থী ধরা পড়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ড পাওয়া এই তরুণের নাম সাইমুম হাসান (২৫)। বাবার নাম মমতাজুল ইসলাম। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গঙ্গানারায়ণপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। সাইমুম চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি কলেজ থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০১৯ সালে। তাঁর বাবা একজন কলেজশিক্ষক। জিজ্ঞাসাবাদে সাইমুম স্বীকার করেছেন, প্রক্সি নিয়ে তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সাইমুম জানান, প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মো. ওয়ালিদ নামের এক তরুণের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই ওয়ালিদই সম্প্রতি তাঁর চাকরির লিখিত পরীক্ষা দিয়ে যান। এতে তিনি পাস করেন। তবে শনিবার সন্ধ্যায় মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তিনি নিজে। সেখানেই তিনি প্রক্সি নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ধরা পড়ে গেছেন।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, মোট ৩৪টি পদের জন্য সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে ১৩টি পদ অফিস সহায়কের। সাইমুম এ পদেরই প্রার্থী। শনিবার বিকাল থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তাঁর কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরীসহ ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা সব প্রার্থীরই লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার সময় হাতের লেখা মিলিয়ে দেখছিলেন। তখনই সাইমুমের হাতের লেখা লিখিত পরীক্ষার খাতার সাথে মেলেনি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রক্সি নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, এই অপরাধের জন্য ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ১৮৮ ধারা মোতাবেক সাইমুমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই নিয়োগ শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হলো। সাইমুমের প্রক্সি নিয়েও ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো। সাইমুমের লিখিত পরীক্ষা যে দিয়েছিল, তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

SHARE