তানোর থানা থেকে বাইক গায়েব

21

স্টাফ রিপোর্টার: দুর্ঘটনার পর আলামত হিসেবে জব্দ করা একটি মোটরসাইকেল রাজশাহীর তানোর থানা থেকে গায়েব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মোটরসাইকেলের মালিক বেলাল হোসেন বুলু সোমবার রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বেলাল হোসেনের বাড়ি তানোরের বুরুজ গ্রামে। গত ৩ মার্চ তানোরের জিওল এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন তিনি। তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. মনজিলা (৫০) নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর হোন্ডার হিরো স্পিড মডেলের ৮০ সিসির এই মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি থানায় দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগপত্রে বেলাল বলেন, দুর্ঘটনার পর মানিক নামের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাঁর বাইকটি জব্দ করে থানায় নেন। মনজিলার চিকিৎসা করানোর পর তিনি থানা থেকে মোটরসাইকেলটি বুঝে নিতে বলেছিলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী তিনি মনজিলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে গত ২৬ জুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গণমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকও হয়। সেখানে বেলাল ক্ষতিপূরণ হিসেবে মনজিলাকে ১০ হাজার টাকা দেন।

এরপর এই আপস-মীমাংসার কাগজ নিয়ে থানায় যান মোটরসাইকেল নিতে। সেখানে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়াকে মীমাংসার কপি দিয়ে মোটরসাইকেল চান। কিন্তু ওসি বলেন, তাঁর মোটরসাইকেলের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। সেদিন বেলাল থানায় তাঁর মোটরসাইকেলটি দেখতে পান। তিনি ওসিকে দেখিয়ে দিলে ওসি বলেন, তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বেলালকে ১৫ দিন পর ডাকেন।

১৫ দিন পর বেলাল আবার থানায় যান। তখন তিনি আর থানায় মোটরসাইকেলটি দেখতে পাননি। মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি কামরুজ্জামান তাকে বলেন, এসআই মানিক বদলি হয়ে গেছেন। মোটরসাইকেল নিতে হলে এসআই মানিককে আনতে হবে। অভিযোগপত্রে বেলাল লিখেছেন, ওসি তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। বলেছেন, মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তা চিরতরে হারাবি। তিনি এ-ও বলেছেন যে, ‘তোর গাড়ির বিষয়ে কিছু জানি না। যেখানে পারবি গিয়ে উদ্ধার করে নিস।’ এভাবে অপমান করে ওসি তাঁর কক্ষ থেকে বেলাল হোসেনকে বের করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ওসি কামরুজ্জামান ও এসআই মানিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বেলাল হোসেন বলেন, ‘এসআই মানিক একটা জিডি করে থানায় গাড়ি রেখেছেন। আমি মীমাংসার কাগজ এবং গাড়ির কাগজ নিয়ে থানায় ঘুরছি। এখন গাড়িও দেখতে পাচ্ছি না। আমার ধারণা গাড়ি বেচে দেওয়া হয়েছে। আমার দুই টাকার গাড়ি হোক, কিন্তু এটা তো হতে পারে না। তাই এসপির কাছে অভিযোগ করেছি। আশা করছি এর একটা বিহিত হবে এবার।’

বেলাল হোসেনের মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমার জানা নাই।’ গাড়িটি কোথায় জানতে চাইলে একই কথা বলেন ওসি। এ বিষয়ে বেলাল হোসেন লিখিত অভিযোগ করেছেন জানালে ওসি বলেন, ‘সাংবাদিককে কী এসপি অফিস অভিযোগ তদন্ত করতে দিয়েছে? সাংবাদিক কীভাবে জানবে! অভিযোগ হয়েছে, সেটা এসপি অফিসই দেখবে। এ নিয়ে সাংবাদিকের মাথা ব্যাথার কারণ নেই।’

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে তিনি দেখবেন।

SHARE