গভীর রাতে আ.লীগ বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি,গ্রেফতার ২

19

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালুর রাণীবাজার (মুন্সিডাঙ্গা) এলাকার বাড়িতে গভীর রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের এর সাবেক পরিচালক ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিংকন (৫৬) ও শিরোইল কলোনী ৩নং গলির সামসুল হক এর পুত্র মোঃ সজল আলী (২৪)।
পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১ টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বোয়ালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ সংবাদ পান রানীবাজার কালু এর বাড়ীর সামনে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। পরে পুলিশ সূত্র ধরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপশহর হাউজিং এস্টেট (এভারেস্ট হারমণি), বাসা নং-১৭৭, রোড নং-০৪, সেক্টর নং-৩ এর ৪র্থ তলা প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের এর সাবেক পরিচালক ওয়াহিদ মুরাদ জামিল লিংকন (৫৬) ও শিরোইল কলোনী ৩নং গলির সামসুল হক এর পুত্র মোঃ সজল আলী (২৪) গ্রেফতার করে। এসময় উপশহরের বাসা থেকে দুটি শটগান, একটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন ও শতাধিক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। একই সাথে পুলিশ অস্ত্রধারীদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ঢাকা মেট্রো-গ-২১-৮৫৮৩ জব্দ করে।
এদিকে রোববার সকাল থেকে পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বোয়ালিয়া থানায় জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশ উর্দ্ধতনকর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অস্ত্রধারীরা কি উদ্দেশ্য আতিকুর রহমান কালুকে হত্যা করতে এসেছিল-তার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালু অভিযোগে জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি রাত সাড়ে ১১টায় ঘুমিয়ে পড়েন। বোয়ালিয়া থানাধীন মুন্সিডাঙ্গা রানীবাজার এলাকার ছয়তলা ভবনটির তিনতলায় থাকেন তিনি। রাত সোয়া একটার দিকে বাসার প্রধান ফটকে চিৎকার চেঁচামেচি গালাগালি শুনে তার ঘুম ভাঙে। তিনি ভবনের তিনতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে গেটম্যান আমজাদের কাছে ঘটনা জানতে চান। এ সময় একদল অস্ত্রধারী লোক তাকেই খুঁজছেন বলে জানিয়ে শটগান থেকে পর পর তিনটি গুলি ছুড়েন। তবে দ্রুত মাথা নিচু করায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বারান্দার গ্রিলে লাগে।
এদিকে গুলির শব্দে মহল্লার লোকজন বাসা থেকে রেবিয়ে এলে অস্ত্রধারীরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়িটিকে শনাক্ত করেন। বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, আটককৃত মুরাদ লিঙ্কন নিজেকে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালক পরিচয় দিয়েছেন। কেন তারা গভীর রাতে আওয়ামী লীগ নেতা কালুর বাড়িতে তাকে হত্যা করতে গিয়েছিলেন সেই তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ওয়াহিদ জামিল মুরাদ লিঙ্কনের বাড়ি নগরীর উপকণ্ঠ নওহাটায়। তবে উপশহরের একটি ভবনে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। লিঙ্কন তার সহযোগীদের নিয়ে নগরীর বাটার মোড়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি মূলত ডেভেলপার।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালু রোববার দুপুরে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছেন তিনি।

SHARE