বাগমারায় জোঁকা বিল প্রকল্পে জোর পূর্বক মাছ লুটের অভিযোগ

7

হেলাল উদ্দীন, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের জোঁকা বিলসহ তিনটি পুকুরে মজুদকৃত মাছ জোর পূর্বক লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প থেকে প্রতিপক্ষ হেলাল উদ্দীন, পিয়ারুল, কালাম সহ অনেকের নেতৃত্বে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পের পক্ষ থেকে নিষেধ করার পরও জোরপূর্বক বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক মণ মাছ লুট করা হয়েছে। এতে করে প্রায় বিপুল পরিমান অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন হয়েছে প্রকল্পের। এ ঘটনায় যে কোন সময় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত বছরের আগস্টে জোঁকা বিলে মাছ চাষের লক্ষ্যে মুরাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির নামে লীজ প্রদান করে জমির মালিকরা। কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সংঘাত ছাড়াই প্রথম বছর মাছ চাষ সম্পন্ন করে তারা। দ্বিতীয় বছরে মাছ চাষের জন্য জোঁকা বিলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মজুদ করা হয়েছে। জানাগেছে, হাট-মাধনগর, গোড়সার, পানিয়া, বাসুদেবপাড়া এবং কাষ্টনাংলা গ্রামের মাঝ খানে জোঁকা বিল। বিলটিতে প্রায় জমির পরিমান আড়াই হাজার বিঘা। দ্বিতীয় বছরের জন্য এরই মধ্যে জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের পক্ষ থেকে ২ হাজার ১শত বিঘা জমির মালিকে লীজকৃত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪শত বিঘার মতো জমির টাকা।

বৃহস্পতিবার ওই সকল জমির টাকা প্রদানের করা ছিল। সে মোতাবেক জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের পক্ষ থেকে হাট-হাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হাজির হন সমিতির সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ, হাট-গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আফজাল হোসেন, নরদাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুলসহ অনেকে। টাকা প্রদানের দিন নির্ধারত থাকলেও সেখানে জমির মালিকরা উপস্থিত হননি। তার পূর্বেই বুধবার দিবাগত রাতে জোঁকা বিলের বাসুদেবপাড়া এলাকার একটি স্লুইচ গেইটের পাল্লা তুলে দেয় দুর্বৃত্তরা। স্লুইচ গেইটের পাল্লা তুলে দেয়ায় জোঁকা বিলে কৃষকের পাটসহ অনেক ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে ওই সকল দুর্বৃত্তরা প্রকল্পের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এদিকে স্লুইচ গেইট দিয়ে পানি বিলে প্রবেশ করায় অসহায় হয়ে পড়েছে শতশত কৃষক।
জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে মাছ চাষ করার লক্ষ্যে বিলের চারপাশের গভীর নলকূপের মাধ্যমে বিনামূল্যে ধান সহ বছর ব্যাপি বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে দিয়ে আসছি। সেই সাথে বাড়ি বাড়ি খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্প দেখভাল করা হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, প্রথম বছর জোঁকা বিল মৎস্য চাষের পর নতুন ভাবে জমির মালিকদের টাকা পরিশোধ করে মাছ চাষ শুরু করা হয়েছে।

জোঁকা বিলের লীজ গ্রহীতা মুরাদ হোসেন বলেন, আমার নামে বিল লীজ থাকলেও বিলের চারপাশের প্রায় ৫ গ্রামের ১১ শত জন মিলে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তবে গত বছর অতিরিক্ত মূল্যে বিলের লীজ গ্রহণ করায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে সবাইকে।
এদিকে শান্তিপূর্ণ ভাবে জোঁকা বিল চাষের লক্ষ্যে একটি সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। মাছ চাষে ব্যাপক লোকসানের কারনে জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের পক্ষ থেকে ওই কমিটির নিকট লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের ভিত্তিতে কমিটির লোকজনসহ জমির মালিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেখানে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সেই টাকা প্রদানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) হাট-গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের যেতে বলা হয় উভয় পক্ষকে। জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্য হাজির হলেও অবশিষ্ট কৃষকরা হাজির হননি। তারা সেখানে হাজির না হয়ে জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের মাছ লুট করতে মরিয়া হয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্যরা। জোঁকা বিলের পাশাপাশি মজুদ পুকুর থেকে মাছ লুট করে তারা।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হেলাল উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাছ লুটের কথা অস্বীকার করে বলেন আমাদের কোন লোক মাছ মারেনি।

এদিকে নরদাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল বলেন, জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্যরা জমির মালিকদের টাকা প্রদানের জন্য হাট-গঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও সেখানে জমির কোন মালিক আসেননি। সেখানে আমি সহ থানার ওসি উপস্থিত ছিলাম। জমির মালিকরা দাবী করেন টাকা দিলে গোড়সারে এসে দিতে হবে। সেখানে আর জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্যরা আসেননি। শুনেছি জমির মালিকরা জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, হাট-গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জমির মালিকদেরকে জমির টাকা প্রদানের কথা ছিল। সে কারনে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং জোঁকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সদস্য উপস্থিত হই। কিন্তু কোন জমির মালিক আসেননি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

SHARE