কার্গো ট্রেন চালু হলে লাভ হবে কৃষকের : লিটন

15

স্টাফ রির্পোটার : রাজশাহী থেকে কার্গো ট্রেন চালু হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সোমবার (১৩ জুন) রাতে রাজশাহীতে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন সিটি মেয়র। রাত ৮টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছেড়ে যায় বিশেষ এই আমবাহী ট্রেন।

মেয়র লিটন বলেন, রাজশাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য বছরব্যাপী পরিবহনে যদি কার্গো ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়, তাহলে এ অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এ ব্যাপারে আমি ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।

তিনি বলেন, সড়ক পথে মালামাল পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল, সেই হিসেবে ট্রেনে অত্যন্ত স্বল্প খরচে মালামাল নিয়ে যাওয়া যায়। এতে উৎপাদক ও ব্যবসায়ী সবাই লাভবান হবেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ চালু হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বিশেষ ট্রেনে আম ছাড়াও লিচু, মৌসুমি ফল, ডিমসহ সব ধরনের কৃষিপণ্যও কম খরচে ঢাকায় নেওয়া যাবে। এ পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আম নিতে খরচ পড়বে ১ টাকা ৩১ পয়সা আর রাজশাহী থেকে ১ টাকা ১৭ পয়সা।

কুরিয়ার সার্ভিসে এক টন আম ঢাকায় নিতে খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে ৩৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীর আম ঢাকায় নিতে খরচ পড়বে মাত্র এক হাজার ১১৭ টাকা।

৮ ওয়াগানে ৩০০ মেট্রিক টনের অধিক আম পরিবহন করা যাবে বিশেষ এই ট্রেনে। আম ছাড়াও লিচু, মৌসুমি ফল, ডিমসহ সব ধরনের কৃষি পণ্যও কম খরচে ঢাকায় নেওয়া যাবে।

সপ্তাহে সাত দিনই চলবে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় রহনপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে রাত পৌনে ২টায় ঢাকার তেজগাঁও স্টেশনে পৌঁছাবে ট্রেনটি। পণ্য লোড-আনলোড করতে আমনুরা জংশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কাঁকনহাট, রাজশাহী, সরদহ রোড, আড়ানী, আব্দুলপুর, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম, জয়দেবপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনের পর তেজগাঁও স্টেশনে থামবে এ ট্রেন।

এই অঞ্চলের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা যতদিন এই ট্রেনে আম পরিবহন করতে চাইবেন, ততদিন ট্রেনটি চালু থাকবে বলে জানিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

SHARE