রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত

20

স্টাফ রিপোর্টার: জনগণ শান্তি প্রগতি; অংশীদারিত্বের শক্তি” এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে রোববার সারা দেশের ন্যায় রাজশাহী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। এ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সকাল ১০ টায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বেলুন ফেস্টুন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর জিরো পয়েন্ট থেকে এর বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু করে রাজশাহী কলেজে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীর প্রিন্সিপাল (এ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল) আবু হাসান মো: তারিক, বিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম, । অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিপি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ প্রায় ৪২ টি প্রতিষ্ঠানের ৫০০ জন অংশগ্রহন করেন।
আবু হাসান মুহাম্মদ তারিক বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য একটি পবিত্র দায়িত্ব। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ আজ গর্বিত অংশীদার। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- আমাদের পররাষ্ট্রনীতির এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী একযোগে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিরোধপূর্ণ স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের শান্তিরক্ষীরা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের ১৯৪ টি সদস্য দেশের মধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ খ্যাতি লাভ করেছে। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে শান্তিরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য আমাদের শান্তি মিশনের যাত্রা শুরু করেছিল। এখন পর্যন্ত ৪০ দেশের ৫৬টি মিশনে প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার যোদ্ধা যোগদান করেছে । এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, অনুপ্রেরণা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনায় বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আমরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। মানবতায়, দক্ষতায় আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী বিশে^র অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
এসময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৬১ জন শহিদকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে আবদ্ধ সকলের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, যুদ্ধ ও সংঘাতমুক্ত আগামীর পৃথিবী কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট-সহ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিপি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন), সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন), মজিদ আলী বিপিএম, রাজশাহী র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৫ অধিনায়ক লে. কর্ণেল রিয়াজ শাহরিয়ার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর প্রফেসর আসাবুল হক, রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা; হবিবুর রহমান, বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: আব্দুল খালেক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, বিআইআরসি মেজর মোবাশ্বের হাসান খান ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

SHARE