ভোলাহাটের হাটে বাজারে একই সঙ্গে চলছে মানুষ ও পশুর ওষুধ বেচাবিক্রি

306

ভোলাহাট প্রতিনিধি : মানুষ অসুস্থ্য হলে সুস্থ্য হওয়ার জন্য ছুটেন ডাক্তারের কাছে। একজন সরকার অনুমোদিত ডাক্তার রোগিকে নানা ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওষুধ লিখে দেন। বয়স অনুযায়ী রোগির কত শক্তির মাত্রা ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে সেটাও উল্লেখ করেন ব্যবস্থাপত্রে। তাছাড়া ওষুধের ফর্মেসী দিতে হলে লাগে যোগ্যতা ফার্মাসিস্ট ডিগ্রী এবং ড্রাগ লাইসেন্স। ওষুধের গ্রুপ বা মাত্রা সঠিক না হলে রোগির মৃত্যুও হতে পারে। এসব নিয়ম কানুনকে পাশ কাটিয়ে ওষুধের পসরা সাজিয়ে ভোলাহাট উপজেলার দুটি হাটে ২০ বছর ধরে প্রকাশ্য চলছে কথিত ডাক্তারদের মানুষ ও পুশুর চিকিৎসা ব্যবসা। উপজেলার বড়গাছীতে বৃহস্পতিবার এবং গোহালবাড়ীতে রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। এদুটি হাটে মানুষের ও পশুর ওষুধসহ গাছ গাছাড়া দিয়ে ২০ বছর ধরে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে আনাড়ি অশিক্ষিত বেশ কিছু ব্যক্তি। অশিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন গ্রুপের অ্যলোপ্যাথি, পশুর বিভিন্ন প্রকার ওষুধ এবং গাছ দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিক্রি করছে এসব ওষুধ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এ ভাবে প্রকাশ্যে কোন অনুমোদন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করলেও দেখেও না দেখার ভান করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বড়গাছী হাটে শিবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের জাহান আলী (৬৫), ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছী গ্রামের মতিউর রহমান (২২), জামবাড়ীয়া কৃষ্টপুর গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে আনারুল (৩৮) ও ছোট জামবাড়ীয়া গ্রামের আ. গফুরের ছেলে ভাদু মন্ডল (৫৫) পসরা বসিয়ে মানুষ ও পশুর ওষুধসহ গাছ-গাছড়ার ওষুধ বিক্রি করছেন। এদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউ চার বছর কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত এ ধরণের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে আসছেন।
তাদের কোন প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাগত আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের এ সবের কিছুই নাই। তারা আরো জানান, ড্রাগসুপার মাঝে মাঝে এসে টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ক্রেতারা এসে তাদের ইচ্ছা মত ওষুধ কিনে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল জানান, তাদের জন্মের পর থেকে হাটে এভাবে ওষূধ বিক্রি হচ্ছে দেখে আসছেন। তারা ড্রাগসুপারকে মাঝে মাঝে টাকা দেয়। এছাড়া রহনপুরসহ বিভিন্ন হাটেও চলে এসব অনুমোদন বিহীন ওষুধ বিক্রি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রানি সম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে যথযথ নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হাসান বলেন, সমগ্র ভোলাহাটের গ্রামগঞ্জে হাটে বাজারে অবৈধ ভাবে মানুষকে যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বা যারা প্রদান করছে তা আইনত দ-নীয়। এ ধারা অব্যহত থাকলে সমগ্র জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এ পরিস্থিতি বন্ধ হওয়া উচিত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এসএসএম খাইরুল আতার্তুক বলেন, এ ধরণের ওষুধ বিক্রির আইনগত কোন ভিত্তি নাই। এটি দেখার দায়িত্ব ড্রাগ সুপারের। ড্রাগ সুপার দেখবে বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে ড্রাগসুপার আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগামী সপ্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

SHARE