রোগীকে রামেক হাসপাতালের কর্মচারীর হুমকী

103

স্টাফ রিপোর্টার: ‘চাঁপায়ের মানুষ, মানুষ না, মানুষের চাইতে অমানুষ। বাইরে বের হলে তোর চোখ তুলে নিবো ব্যাটা।’ তুরাব আলীর সাথের আরেক ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের ডাকতে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন।’ রোগীর চারপাশে জড়ো হয় পেটুয়া বাহিনী। এসময় হাসপাতালের কাউন্টারে থাকা অন্যান্য রোগীরা তীব্র প্রতিবাদ করতে তুরাব আলী সাফাই গেয়ে রোগীকে ফিরিয়ে দিতে দেখা যায়। এ আচারণ কোন সন্ত্রাসীর নয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী তুরাব আলীর।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী তুরাব আলীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকী ধামকী আর টিকিটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সেবাপ্রার্থী রোগীসহ তাদের স্বজনরা। তুরাব আলীর আচারণকে অনেকেই বর্ণবাদী আচারণের সাথে তুলনা করছেন। এদিকে কর্মচারীদের এধরণের আচারণে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এর সফলতা পড়ছে বিতর্কের মুখে।
সূত্রে জানা গেছে গত ২৭ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসিফ নামের এক ব্যক্তি গাড়ীর ড্রইভিং লাইসেন্স এর জন্য ডোপ টেষ্টের জন্য আসেন। ডোপ টেষ্টের ৯৮০ টাকার বিপরীতে এক হাজার টাকা কাউন্টারে জমা দেন। এসময় টেষ্টের অতিরিক্ত ২০ টাকা ফেরত চাইলে তুরাব আলী আসিফ কে অপেক্ষা করতে বলেন। দির্ঘক্ষণ পার হলেও বাকী টাকা ফেরত না দিয়ে তুরাব আলী এক পর্যায়ে মারমুখী হয়ে উঠে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে অমানুষ হিসেবে গালিগালাজ করতে থাকে। তুরাব আলীর এমন অসৌজন্য কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকী দিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহনীকে ডাকাতে থাকেন। একই সময় অপর এক বৃদ্ধের উপরও তিনি চড়াও হন। তার এধরণের সন্ত্রাসী ও বর্ণবাদী আচারণের একটি ভিডিও দৈনিক গণধ্বনী প্রতিদিন পত্রিকার হাতে রয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি টেষ্টের সমপরিমাণ টাকার সাথে খুচরা টাকা দিলে তুরাব আলী নিতে তা অস্বীকার করে ফোনে কথা বলতে থাকেন। পাশে আরেক ব্যক্তি এক মহিলার কাছে অতিরিক্ত টাকা ফেরত না দিলে তিনি রাগত স্বরে বাধ্য হয়ে বলেন ‘৩০ টাকা রেখে দেন সমস্যা নাই।’ ফোনে কথা শেষ করে তুরাব আলী বলেন, চাঁপায়ের মানুষ, মানুষ না, মানুষের চাইতে অমানুষ। এক পর্যায়ে তুরাব আলী সন্ত্রাসীদের মতো হাত উচিয়ে বলেন, বাইরে বের হলে তোর চোখ তুলে নিবো ব্যাটা।’ তুরাব আলীর সাথে আরেক ব্যাক্তি সন্ত্রাসীদের ডাকতে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন।’ এধরণের কথা শুনে টিকিট হাতে নিয়ে থাকা পাশের আরেক মুরব্বি প্রতিবাদ করে উঠেন। ভিডিওতে দেখা যায় এতো কিছুর হবার পরও তুরাব আলী টাকা ফেরত দেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী তুরাব আলী রামেক হাসপাতালে টেলিফোন অপারেটর হিসেবে যোগদান করেন। পরে তাকে হাসপাতালের ব্লাড কালেকশানের রিসিভ সেকশানে দ্বায়িত্ব পালনের জন্য দেয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, কোন রোগী বা রোগীর আত্মীয় খুচরো টাকা না থাকার জন্য টেষ্টের নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত কোন টাকাকাউন্টারে জমা দিলে তুরাব আলী তা ফেরত না দিয়ে বাকী টাকা রেখে দেন। এজন্য তিনি রোগীদের দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখেন। এমন কি কোন রোগী টেষ্টের নির্ধারিত টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করেন না। একই সময় টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন রোগীর সাথে টালবাহনা করে টাকা ফেরত না দিতে দেখা গেছে।
তুরাব আলী বলেন, আমি এধরণের কথা বলিনি। রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিভিন্ন অনিয়ম গুলো পর্যায় ক্রমে দমন করা হচ্ছে। একই সাথে অনিয়মের জন্য ইতোমধ্যে একজনের চাকুরী চলে গেছে। এখনও কিছু জায়গাতে সমস্যা আছে। তবে হাসপাতালটিকে আরও আধুনিক সিন্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং নতুন কিছু সৎ যোগ্য জনবল উপযুক্ত স্থানে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন অনিয়ম অচিরেই বন্ধ হবে বলে আশা করা যায়। তুরাব আলী সম্পর্কে রামেক হাসপাতাল পরিচালক বলেন, এটা কোন কর্মচারী সুলভ আচারণ নয় বরং তা সন্ত্রাসী আচারণ। ফুটেজ দেখে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় এই প্রথম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার-২০২০’ অর্জন করে রামেক হাসপাতাল। গত ৩১ মার্চ ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছ থেকে জাতীয় এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। কিন্তু হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে রামেক হাসপাতাল সেবার মান নিয়ে জন মনে প্রশ্ন উঠছে।

SHARE