এস কে সিনহার বিরুদ্ধে হুদার মামলায় দুদকের তদন্ত শুরু

177

ঢাকা,সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দায়ের করা মামলায় তদন্ত শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সোয়া তিন কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন নাজমুল হুদা।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবেন কমিশনের মহাপরিচালক খান মো. নূরুল আমিন। মামলার তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করা হবে। প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে চার্জশিট পেশ অথবা প্রমাণ না মিললে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এ ছাড়া অধিকতর তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নাজমুল হুদা বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন। পরের দিন ২৮ সেপ্টেম্বর এজাহারটি ঢাকার সিএমএম আদালতের শাহবাগ থানার জিআর শাখায় পাঠানো হয়। পরে এজাহারটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অপরাধটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সেটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী তদন্ত করবেন।

এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তিনি অভিযোগটি বিশ্লেষণ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে পেশ করা হলে তখন সেটা জানা যাবে ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। মামলাটি আদালতের মাধ্যমে দুদকে এসেছে বলে জানান। আদালত অভিযোগের মেরিট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সেটি পাঠিয়েছেন।

এস কে সিনহাকে অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন মনে করলে তাকে যথারীতি জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে কখন কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সেটি তদন্ত কর্মকর্তাই নির্ধারণ করবেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাধ্যতামূলক নয় বলেও উল্লেখ করেন দুদক চেয়ারম্যান।

সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে দুর্নীতির একটি মামলা ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ হাইকোর্ট বাতিল করেন।

নাজমুল হুদার দাবি, বিচারপতি এস কে সিনহা ২০১৭ সালের ২০ জুলাই তাকে তার জমাদারের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্য তাকে নগদ ২ কোটি টাকা দিতে চেয়েছেন যদি তিনি একটি মামলায় নাজমুল হুদার সাজা নিশ্চিত করেন। সাজা হলে তিনি (হুদা) নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। সিনহা বলেন, নাজমুল হুদা নগদ ২ কোটি টাকা এবং আপিল বিভাগে আড়াই কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজ আবেদনের বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রদান করলে তিনি ও তার স্ত্রীর মামলাগুলোয় মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। নাজমুল হুদা তাতে রাজি না হলে বিচারপতি সিনহা মামলার পুনঃশুনানি করবেন এবং একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজের পথ বন্ধ করে দেবেন। নাজমুল হুদা এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিচারপতি সিনহা হাইকোর্টের রায় পাল্টে দেন।

SHARE