পদ্মার চরে বেগুন বিপ্লব

175

জিল্লুর রহমান : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে এবার বেগুন চাষে বিপ্লব ঘটেছে। অনুকুল আবহাওয়া থাকায় বিগত যে কোন বছরের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ বেগুন উৎপাদন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি বিভাগ। বর্তমানে এ অঞ্চলের বেগুন স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশাপাশি রপ্তানী হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলসহ সমতল এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর বেগুন চাষ করে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন তারা। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় মুলত এই সাফল্য দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, অন্যবারের তুলনায় এবার বেগুন চাষে বিপ্লব ঘটেছে। তাই উৎপাদিত বেগুন অত্র অঞ্চলের মানুষের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে রপ্তানী করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সরেজমিন উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলসহ সমতল এলাকার আড়ানী, কুশাবাড়িয়া, গোচর, হামিদ কুমড়া, জোতরঘু, রুস্তমপুর, বাউসা, তেথুরিয়া,বাজুবাঘা ও খায়ের হাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চলতি শীত মৌসুমে যত্নের সাথে বেগুন পরিচর্যায় ঝুকে পড়েছেন কৃষক। তাদের মতে, এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় প্রত্যেক কৃষক তাদের নিজনিজ জমিতে সময় মতো সার, পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ করে বেগুনের চাষাবাদ করেছেন। এ কারণে এ বছর বেগুন চাষ অত্যান্ত ভাল হয়েছে। অনেকের মতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বেগুনের উৎপাদন। গোচর গ্রামের বেগুন চাষী মনির হোসেন বলেন, তিনি এ বছর দেড় বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। কুশাবাড়িয়া গ্রামের আছাদ মিয়া জানান, তিনি গত বছর ৪৯ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করে আবহাওয়া অনুকুল না থাকায় বেগুনে পোকার আক্রমণ হয়েছিল। ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন। তাই এ বছর মাত্র ১৯ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। কিন্তু এবার বেগুনচাষে এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। এর ফলে তিনি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা বেগুন গাছের পরিচর্যা ভাল করতে পেরেছেন তাদের জমি থেকে সপ্তাহে কোন কোন জমিতে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মন বেগুন উৎপাদন হচ্ছে। এদিকে উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে , অন্যান্যবারের তুলনায় অত্র এলাকার কৃষকরা এ বছর বেগুন চাষে মারাত্মক মনোযোগী হয়েছেন। এর প্রধান কারণ , এবার বেগুন চাষে একদিকে বাম্পার ফলন হচ্ছে, অপর দিকে কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্য মূল্য। চরাঞ্চলের কৃষক মিলন জানান, পদ্মার চরের গুনগত মাটি এবং আবহাওয়ার কারণে এখানকার বেগুনে একদিকে যেমন পোকা লাগেনা অপর দিকে স্বাদও আলাদা। তিনি গত বছর রমজান মাসের পুর্বে ৫ বিঘা জমিতে বেগুনের চাষ করে ছিলেন। কিন্তু বাজার মুল্য ভাল না পাওয়ায় এবার শীতের সবজি হিসেবে মাত্র ২ বিঘা জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। অপর একজন কৃষক মিঠুন বলেন, এবার বেগুনের উৎপাদন এতোটা ভাল হবে বুঝতে পারলে গতবারের চেয়ে দ্বিগুন জমিতে বেগুন চাষাবাদ করতাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন , বাঘা এমনিতেই কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। তার উপরে যে সমস্ত এলাকাগুলোতে বেগুন চাষে বিপ্লব ঘটেছে তার সবই প্রায় নদী ও তার শাখা বড়াল নদীর ধারে হওয়ায় এই সাফল্য দেখা দিয়েছে। তার মতে, নদী বিধৌত এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হলেও পানি জমে থাকে না। তাই শুধু বেগুন নয়, যে কোন সবজি ফসল ভাল হয়। তাঁর দেয়া তথ্য মতে, এ বছর বাঘা এলাকায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ করা হয়েছে। এ থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন অত্র অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ।

SHARE