বাঘায় বলাৎকারের ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত

201

বাঘা প্রতিনিধি : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুর মতো, শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ব বুঝতে হবে শিক্ষকদের। কিন্তু বাস্তবে-কি তা হচ্ছে? সম্প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক কেমন-রাজধানী ঢাকার ভিকারুননিসায় অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা ধারণা দিয়েছে দেশবাসীকে। আর এ ঘটনার রেশ কাটতে-না কাটতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে আরও একটি নারকীয় ঘটনা। জানা গেছে, গতকাল শনিবার এক শিক্ষকের বিচার দাবিতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় একঘন্টা পরে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করা হয়। সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে বলৎকারের চেষ্টার ইস্যু নিয়ে পরীক্ষা বর্জন করে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অবশেষে শিক্ষক রুহল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় উপজেলার কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার (৪-১২-১৮) বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দুুপুর ২ টায় ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র প্রকাশ কুমারকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে বলৎকারের চেষ্টা করে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রুহুল আমিন। এ সময় কৌশলে পালিয়ে এসে সহপাঠী ও বড় ভাইকে বিষয়টি অবগত করে প্রকাশ। এ নিয়ে পরের দিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একত্র হয়ে বিচার দাবি করে কতিপয় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন। এ সময় রব্বেল ও আশিক নামের দুই ছাত্রকে মারধর করে বিদ্যালয়ের পিয়ন। এ ঘটনার পর প্রকাশের বড়ভাই কিশোর কুমার রায় বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ছাত্র প্রকাশ কুৃমারের বাড়ি উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে। তবে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্রকে দিয়ে এ ধরনের ইস্যু তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষক রুহুল আমিন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৩ এর অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাতিল করার জন্য বলেছিলেন প্রধান শিক্ষক। আর আমি সেই কাজটি করেছি। ফেল করা ছাত্ররা আমার নামে মিথ্যাচার করে আন্দোলনের এই ইস্যু তৈরি করেছে। এদিকে রুহুল আমিনকে বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক বলেন, এর আগেও কিছু ছাত্র দলবদ্ধভাবে স্কুলের সামনে একত্র হয়। পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করে ভাংচুরের চেষ্টা করছিল। পরীক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ পুলিশ প্রশাসনকে ডাকলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আক্কাছ আলী বলেন, ছাত্রের অভিভাবক তপন রায়কে ডেকে, শনিবার দুপুর ৩ টায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একই ইস্যু নিয়ে শনিবার সকালে আবারো আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগত লোকজনসহ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে পরীক্ষায় বিলম্ব হয়েছে। এর আগে প্রকাশের বড় ভাই মারফত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই কথা বলেন বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসীন আলী ।

SHARE